সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুতে শীর্ষে ভারত

‘সেলফি’ তোলার ঢল নেমেছে গোটা দুনিয়ায়। এই ঢলে শামিল হতে গিয়ে অসাবধানতায় অসংখ্য মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সেলফি তুলতে গিয়ে সারা বিশ্বে নিহতের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে আছে ভারত।

‘মি, মাইসেলফ অ্যান্ড কিলফি: ক্যারেক্টারাইজিং অ্যান্ড প্রিভেনটিং সেলফি ডেথস’ শীর্ষক এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন যৌথভাবে গবেষণাটি করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে সারা বিশ্বে যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ঘটেছে ভারতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মুম্বাই পুলিশ ১৫টি স্থানকে সেলফি তোলার জন্য বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া শহরের কোন কোন এলাকা ‘সেলফি ফ্রি পয়েন্ট’, তা-ও জানানো হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার পরমজিৎ দাহিয়া বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। সেলফি পয়েন্টে ঢেউ বা স্রোত বেশি থাকলে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আবহাওয়া খুব খারাপ থাকলে আমরা জনসাধারণকে সমুদ্রের খুব কাছে গিয়ে সেলফি না তুলতে অনুরোধ করি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে টুইটারেও সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে থাকে মুম্বাই পুলিশ। তারা বলছে, ‘সেলফি তুলতে গিয়ে নিজের জীবনটা বিসর্জন দেবেন না’।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে সারা বিশ্বে ১২৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর এ মধ্যে ৭৬ জনই ভারতের।

এ ব্যাপারে ভারতের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সালমা প্রভু বলেন, সেলফি উন্মাদনা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। এটা যে শুধু তরুণেরাই করছেন তা নয়, বরং বয়স্ক ব্যক্তিরাও এই উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন। বিপজ্জনক মুহূর্তের ছবি তুলে তৎক্ষণাৎ তা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটে পোস্ট করা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লাইক বা মন্তব্য সংগ্রহের লোভেই মানুষ নিজের জীবনের এত বড় ঝুঁকিটা নিচ্ছে।

সালমা প্রভু বলেন, এ ব্যাপারে তরুণদের বোঝাতে হবে। তারা যেভাবে বুঝতে চায়, সেভাবেই তাদের বোঝাতে হবে। মনে রাখতে হবে, এসব সেলফি ছবিতে লাইকের সংখ্যা যত বাড়বে, মৃত্যুর ঝুঁকিও তত বাড়বে।

গত ২৭ জুন ভারতের মেরিন ড্রাইভে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় সেলফি তুলতে গিয়ে প্রীতি নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে। ১৫ মে সমুদ্রে সেলফি তুলতে গিয়ে মীনাক্ষি রাজেশ নামের প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী ভেসে গেছে। ১ মে মহারাষ্ট্র রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সোলাপুরে নৌকায় বেড়ানোর সময় সেলফি তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে চার চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের ৯ মে বান্দ্রা সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে ভেসে গেছে তারান্নুম আনসারি নামের ১৮ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রী। ৩১ জানুয়ারি চেন্নাইয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে রেললাইনের ওপর সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারায় এক কিশোর। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মুম্বাইয়ের সমুদ্রসৈকতে সেলফি তুলতে গিয়ে ডুবে যায় এক কিশোরী। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ভেসে যান এক যুবকও।

source: prothom-alo