আগুন ও উন্মত্ততা দেখবে উত্তর কোরিয়া : ট্রাম্প

পাল্টাপাল্টি হুমকিতে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যদি পারমাণবিক হামলার হুমকি দেয়া বন্ধ না করে তাহলে আগুন ও উন্মত্ততার ভয়ঙ্কর রূপ দেখবে দেশটি। ক্ষমতার এমন হস্তক্ষেপ করা হবে, যা বিশ্ব কোনোদিন দেখেনি। মঙ্গলবার নিউ জার্সিতে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুমকি দেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকি থোড়াই কেয়ার করে গোয়ামের মার্কিন ঘাঁটি আগুনে ঢেকে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ফলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া।

গার্ডিয়ান, রয়টার্স, বিসিসি, সিএনএন। এদিকে পাল্টাপাল্টি হুমকিতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনার পারদ টগবগ করছে। যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। সেই জবাব হবে ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ বা আগুন ও উন্মত্ততার জবাব। কিন্তু ট্রাম্পের এমন হুশিয়ারিকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা ট্রাম্পের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে বলেছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে এমন রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, উত্তেজনাকর এ অবস্থায় আর্থিক বাজার এলোমেলো হয়ে গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ও বিশ্লেষকরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাকযুদ্ধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। পিয়ংইয়ং বলেছে, তারা গুয়ামে হামলা পরিকল্পনা সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছে। উল্লেখ্য, গুয়ামে বসবাস করে প্রায় এক লাখ ৬৩ হাজার মানুষ। সেখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি। এ ঘাঁটিতে আছে একটি সাবমেরিন স্কোয়াড্রন, একটি বিমান ঘাঁটি ও কোস্টগার্ড গ্রুপ।

কোরিয়ান পিপলস আর্মির একজন মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএনকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা এখন শুধু নেতা কিম জং উনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। তিনি সিদ্ধান্ত দেয়ামাত্র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

ওদিকে গুয়ামের গভর্নর এডি ক্যালভো উত্তর কোরিয়ার হুমকি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। তাই যে কোনো হামলা মোকাবিলা করার জন্য তারা প্রস্তুত। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি। হুমকির মাত্রা বা থ্রেট লেভেলও পরিবর্তন করা হয়নি। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার মনে রাখা উচিত, গুয়াম হল আমেরিকার ভূখণ্ড। এটা শুধু একটি সামরিক স্থাপনা নয়। উত্তর কোরিয়া অন্য এক বিবৃতিতে বলেছে, যে কোনো হামলা পরিকল্পনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডসহ সব শত্রুর শক্ত ঘাঁটি নির্মূল করা হবে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে শক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত- এমন হুশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

শনিবার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো গোপনীয়তা রাখেনি। তারা দম্ভ করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে সক্ষম। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ক কর্মসূচি বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বানকেও অবজ্ঞা করছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো শত্রুতামূলক হামলা প্রতিরোধে বৈধ আন্তঃদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে তারা। তবে উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছেন, তাতে তিনি নিজেই বিপাকে পড়বেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ডারিল কিমবল বলেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দেয়া ট্রাম্পের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নয়। আমার এ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সংলাপ প্রয়োজন।’

সুত্রঃ jugantor