ঝুঁকিতে ২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু

নিউজ ডেস্কঃ
মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, এসব শিশুদের মধ্যে ১ হাজার ১২৮ জনকে পাওয়া গেছে -বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে যারা মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের শিশুদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে জাতিসংঘের এই সংস্থা।

এদিকে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, শরণার্থীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু।

ইউনিসেফ-বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ইউনিটেরে প্রধান জঁ লিবির দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়েছে, তা অভাবনীয়। শুধু ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর-এই ৬ দিনে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ এসেছে বাংলাদেশে। এ ঢল যে কমবে, এর কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এটি একটি বড় মানবিক বিপর্যয় আর এর বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। প্রাথমিক তথ্য থেকে বলা যায়, মিয়ানমার থেকে এ যাবৎ যত রোহিঙ্গা এসেছে, এর মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। ’

ইউনিসেফের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেসব শিশু এসেছে, তারা কয়েক দিন ধরে নির্ঘুম। তারা ক্ষুধার্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ও বিপৎসংকুল যাত্রাপথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জরুরিভিত্তিতে তাদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা দরকার। পালিয়ে আসা শিশুরা অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ।’

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বলছে, এসব শিশুর সুরক্ষা এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দরকার। এখন প্রতিদিন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য একের পর এক শিবির তৈরি হচ্ছে। এসব শিবিরে নিরাপদ পানি এবং মৌলিক স্যানিটেশন-সুবিধা দরকার বলে মনে করে ইউনিসেফ।

জঁ লিবি বিবৃতিতে বলেন, ‘যেসব শিশু মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, আমার বড় শঙ্কা তাদের নিয়ে। এখন পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ১২৮ শিশু পেয়েছি, যারা মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে এসেছে। আগামী দিনগুলোতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।’

এদিকে বিশ্বের প্রায় ৩৫ লাখ শরণার্থী শিশু স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা। এমন অবস্থায় বিশ্ববাসীর কাছে শরণার্থী শিশুদের জন্য বড় ধরনের অর্থ সহায়তার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনারা নতুন করে নির্যাতন শুরুর পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা নাফ নদী বা দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

এ ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের নিন্দা জানিয়েছে। সু চির প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু সুচি বলছেন, তারা ‘টেরোরিস্ট’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। এতে গণহারে মানুষ মারা হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন এই হত্যাকাণ্ডকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বৈঠক ডেকেছে।

সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/national/37053.online