শান্তিতে নোবেল জিতলো পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সংগঠন আইসিএএন

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এ বছর শান্তিতে নোবেল জিতে নিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপে প্রচারণাকারী সংগঠনের জোট ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন)। নরওয়ের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিতে নোবেলজয়ী ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে নোবেল কমিটি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির নেতা বেরিট রেইস অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক বিশ্বে বাস করছি যেখানে পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ICAN

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপে প্রচারণা চালানো সংগঠন আইসিএএন ১০০টিরও বেশি দেশে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ায় কার্যক্রম শুরু করলেও সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে ভিয়েনায়।এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে পোপ ফ্রান্সিস, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, সিরিয়ার উদ্ধারকর্মী দল হোয়াইট হেলমেটস, যৌথভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ, পশ্চিম আফ্রিকান জোট ইকোনমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোওয়াস) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ গ্রান্দি, আমেরিকান সিভিল রাইট ইউনিয়নের নাম আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জিতে নিয়েছে আইসিএএন।

১৯০১ সাল থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ বার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলো। পুরস্কারের ছয়টি ক্যাটাগরির মধ্যে পাঁচটি ক্যাটাগরির বিজয়ী সুইডিশ নোবেল কমিটি ঘোষণা করলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা নরওয়ে কমিটি দিয়ে থাকে। এ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন একজন। তিনি হলেন ভিয়েতনামের বিপ্লবী, কূটনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লি ডাক থো।

এ বছর এ পর্যন্ত শান্তিসহ মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর সোমবার অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। আর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে ডিসেম্বরে।

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সন্ধানের জন্য ২০১৭ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি বিজ্ঞানী। তারা হলেন রেইনার ওয়েইস,ব্যারি ব্যারিস ও কিপস থ্রোন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান রাখায় ২০১৭ সালে চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার জিতে নেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী জেফরি হল,মাইকেল রোশবাশ ও মাইকেলন ইয়াং। আর এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক কাজু ইশিগুরো। আরজৈবকণার প্রতিচ্ছবি ধারণের নতুন কৌশল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরে রসায়ন শাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রিচার্ড হেন্ডারসন,জোয়াকিম ফ্যাংক এবং জ্যাক দুবাশে। ক্রায়ো ইলেকট্রনিক পদ্ধতির প্রয়োগে জৈবকণার চিত্রধারণ আরও উন্নত ও সহজ করে তুলেছেন ওই তিন বিজ্ঞানী।

উল্লেখ্য, ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল তার মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরষ্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮ তে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যু বরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করা এবং নোবেল পুরষ্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। আর বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়।

সুত্রঃ banglatribune