আসছে রোহিঙ্গা আসছে ইয়াবা

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গার ঢল যেমন বাংলাদেশে আসছে তেমন আসছে ভয়াবহ মাদক ইয়াবার চালান। ২৫ আগস্টের পর গত দেড় মাসে উদ্ধার করা হয়েছে ২১ লাখেরও বেশি পিস ইয়াবা।

অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমারে ইয়াবা উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে সে দেশের সেনাবাহিনীর জেনারেলরাও জড়িত। গত দেড় মাসে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে সাধারণ রোহিঙ্গারা যেমন এসেছে, তেমন তাদের সঙ্গে ইয়াবা নিয়ে এসেছে বর্মি সেনাবাহিনীর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ীরাও। মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের এক বড় অংশের সঙ্গে মাদকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইয়াবা আগ্রাসন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হলেও এ দৈত্যকে ঠেকানো যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসার সঙ্গে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সম্পর্ক থাকায় তারা যা ইচ্ছা তাই করার সুযোগ পাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি কোনো কোনো সংসদ সদস্যের সঙ্গে রয়েছে মাদক ব্যবসার সম্পর্ক। রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এমনকি আরও উচ্চ পর্যায়ে বিতরণ করা হয় মাদক ব্যবসার বখরা। আশির দশকে এ দেশে হেরোইনের আগ্রাসন ঘটে। ওই দশকের শেষ দিকে ফেনসিডিল মাদক রাজ্যের পরিচালিকা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইয়াবার আগমন ঘটে মাদকরাজ্যে। প্রথম দিকে এ আগ্রাসনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন ইয়াবার থাবায় আক্রান্ত দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকা। রাজধানীর অভিজাত তরুণ-তরুণীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইয়াবায় আসক্ত। এ নেশার অর্থ জোগাতে তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। তরুণীদের কেউ কেউ দেহপসারিণী হয়ে জোগাচ্ছে মাদক কেনার অর্থ। সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের প্রবণতাও বাড়ছে দ্রুত হারে। একই সিরিঞ্জে বিভিন্ন জনের মাদক গ্রহণে এইচআইভি এইডস ও বি-হেপাটাইটিস ছড়িয়ে পড়ার বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে। মাদকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলে বিবেচিত ইয়াবা। এ মাদক নেশায় তাত্ক্ষণিকভাবে হৃত্স্পন্দন, রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। মস্তিষ্কের কিছু কোষের অপমৃত্যু ঘটে। এভাবেই হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও কিডনি বিকলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে ইয়াবা আসক্তরা। এ মরণনেশা প্রতিরোধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

সুত্রঃ bd-pratidin.com