‘ব্লু হোয়েল’র নির্মাতা নিজেই একজন মানসিক রোগী!

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট দুনিয়ার এক ভয়ংকর নাম ‘ব্লু হোয়েল’। এই গেমের নেশার ফাঁদে পড়ে তরুণ-তরুণীরা আত্মহত্যা করতেও পিছপা হচ্ছে না।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও এক মেধাবী তরুণীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।। কী আছে এই গেমের মধ্যে? ফিলিপ বুদেকিন কেনই বা তৈরি করলেন এই গেম, তাই এখন আলোচনার অন্যতম ইস্যু। তদন্ত কর্মকর্তারা  জানিয়েছে ফিলিপ নিজেও একজন মানসিক রোগী।

কে এই বুদেকিন?
বুদেকিন (‘ব্লু হোয়েল’ ভক্তরা যাকে ফিলিপ ফক্স বলে জানে) রাশিয়ার নাগরিক। তার পরিবার সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। বুদেকিন ২০১৩ সালে ব্লু হোয়েল এর যাত্রা শুরু করেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করার সময় বুদেকিন রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করত।  তবে ব্লু হোয়েলের বিষয়টি প্রকাশ হলে ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।

ভয়ঙ্কর এই গেম তরুণ খেলোয়াড়দের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে যা তাদেরকে পঞ্চাশটি বিপজ্জনক এবং ধ্বংসাত্মক কর্মের মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত করে এবং চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বুদেকিনের আদেশে নিজেদের প্রাণ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ব্রিটেনেও ছড়িয়ে পড়ছে এই গেম। কিছু কিছু স্কুল অভিভাবকদেরকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে তারা বাচ্চাদেরকে এ ধরণের অসুস্থ খেলায় অংশ নিতে না দেয়।

‘ব্লু হোয়েল’ ঠাণ্ডা মাথায় ধীরে ধীরে তরুণ খেলোয়াড়দের মনে আত্মহত্যার বীজ বপন করে। এই খেলায় একটি ট্রেনের গায়ে লেখা থাকে, “এই জগৎ আমাদের জন্য নয়”। ছাদের উপর কিশোর-কিশোরীর ছবি দেখা যায়, যার ক্যাপশন, “আমরা মৃত প্রজন্মের সন্তান”। এসবের পাশাপাশি এই গেম প্রতিদিন ভয়ের সিনেমা দেখতে বলে,  গভীর রাতে চ্যালেঞ্জিং কিছু করে দেখাতে বলে।

রাশিয়ার ইরখুটস্কের দুই বান্ধবী ইউলিয়া কনস্ট্যান্টিনোভা (১৫) এবং ভেরনিকা ভোলকোভা (১৬) একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আত্মহত্যা করেছেন। ইউলিয়া তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেইজে ‘সমাপ্ত’ লিখে একটি নীল তিমি একটি ছবি পোস্ট করেছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের আকৃষ্ট করতে তিমিকে এই ক্ষতিকারক গেমের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ভেরনিকা লিখেছেন, ‘অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি… সমাপ্ত’। সে নিয়মিতভাবে দুঃখদায়ক আবেগের সাথে আপডেট পোস্ট করত। যেমন, ‘আপনি কি অনুভব করেন যে ধীরে ধীরে আপনি অথর্ব হয়ে পড়েছেন?’ কিংবা ‘আমি যথারীতি একটি ভূত’। একটি সাক্ষাৎকারে, বুদেকিন বলেন যে সে অল্পবয়সী কিশোরীদের একটি মোহগ্রস্ত করে রাখে যাতে তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি করা যায়।

তার ভাষায়, “হ্যাঁ। আমি সত্যিই সেটা করেছি। চিন্তা করবেন না, সবকিছু বুঝতে পারবেন একসময়।,সবাই বুঝবে। তারা মরে শান্তি পাচ্ছে। আমি তাদের তাই দিয়েছি যা তাদের জীবনে ছিল না। উদ্দীপনা, বিচারবুদ্ধি, সম্পৃক্ততা। তাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলো, যাদের সাথে আমি কেবলমাত্র যোগাযোগ করতাম, যারা  আমার সরাসরি প্রভাব ছাড়া আত্মহত্যা করে।

মানুষ আছে এবং জৈব বর্জ্যও আছে যারা সমাজের জন্য কোন গুরুত্ব বহন করে না। এরা কেবল সমাজের ক্ষতি করে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আমি যেমন আমাদের সমাজ থেকে এ ধরণের আবর্জনা পরিষ্কার করছি। এটি ২০১৩ সালে শুরু হয়েছিল যখন আমি এফ-৫৭ গ্রুপ তৈরি করেছি। আমি ৫ বছর ধরে এই ধারণাটি নিয়ে চিন্তা করছি।”

রাশিয়ার পুলিশ কর্তৃপক্ষের মতে, বুদেকিনের কাছে অসংখ্য ‘ব্লু হোয়েল’ অনুসারীদের প্রেমপত্র আসে। বুদেকিন বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি কারাগারে আছে।