খালেদা জিয়ার জনসভা কাল

নিউজ ডেস্কঃ
আগামীকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিখি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এরই মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলো কয়েক দফা প্রস্তুতি সভা করেছে। রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো থেকেও লোক আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই জনসভায় ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চায়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এটা কাজে লাগবে বলেও মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা সমাবেশকে সফল করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। গতকাল বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। জনসভাস্থল পরিদর্শনের পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে জনসভা অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে জনসভাকে ঘিরে রাজধানীতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার কয়েকজন নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, জনসভায় মানুষের ঢল নামবে। এটা দিয়ে সরকারকে বোঝানো হবে, বিএনপি সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। দেশে সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি ৮০ ভাগ আসনেই বিজয়ী হবে।

জনসভাস্থল পরিদর্শনের সময় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা করতে আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করব তারা যেন কোনো রকমের উসকানিমূলক কার্যক্রম না করে এবং আমাদের সহযোগিতা করে। আমরা সরকারের কাছ থেকে রাজনৈতিক আচরণ আশা করব। ’ এ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুল সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, রফিকুল ইসলাম রাসেল, সাইফুল ইসলাম পটু, উত্তররের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, নুরুল ইসলাম নয়ন, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মাঠের কোথায় মঞ্চ নির্মাণ হবে তার একটি সম্ভাব্য নকশা নিয়ে মঞ্চ নির্মাতার সঙ্গে আলাপ করেন।

এ সময় মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বলেছেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, বিএনপি কখনো উচ্ছৃঙ্খল দল নয়, অন্তুত আওয়ামী লীগের মতো। একটা সুশৃঙ্খল দল হলো বিএনপি। আমরা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করি না। এই কথাটুকু বলে উনি মনে হয়, উসকানিমূলক ইঙ্গিত দিলেন। উনাদের যে মনের ভিতরে কী আছে, তা প্রকাশ করে দিলেন। উনার কথাটা ইঙ্গিতময় মনে হলো। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এ জনসভায় সরকারের সহযোগিতা চাইব। ’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনসভার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়ছে। দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যৌথসভা করছেন। কীভাবে সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সফল করা যায়, তা এখন মুখ্য বিষয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া তাদের সমাবেশ করার জন্য আশ্বাস দিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।

সর্বশেষ গত বছরের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছিল বিএনপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে সমাবেশটি করে বিএনপি। তারা ওই সমাবেশটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে চেয়েছিল, পরে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় নয়াপল্টনে সমাবেশ করে।

সুত্রঃ bd-pratidin