হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়: খালেদা জিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে তো নয়ই।’

রবিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। একই সঙ্গে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানান তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ ঘরে ঘরে কান্নার আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। সেজন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। যেই নির্বাচনে মানুষ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে যাবে। তারা যাকে পছন্দ তাকে দেবে ভোট দেবে । সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তারা কি ধরনের চুরি করেছে সবাই দেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পেশাজীবীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, শিক্ষকের ভোটে তারা একই কাজ করেছে। চুরি করে জনগণকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনে জয়লাভে কোনো আনন্দ নাই। এরপরও তারা নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। কারণ তারা জনগণকে ভয় পায়।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি জনগণের মনোভাব বোঝেন যে তারা কি চাচ্ছে। জনগণ চাচ্ছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।’

বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রবিবার বেলা পৌনে ২টায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খানের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এই জনসভায় বেলা ৪টা ১০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন খালেদা জিয়া।

এ সময় ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘মাঠে আপনারাও যাবেন, আমরাও যাবো। চ্যালেঞ্জ করছি একটি জায়গায় আপনারা সভা করেন আমরাও করছি দেখি কাদের কতো লোক আছে। জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের এতো ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝে মাঝে সত্য কথা বলেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। তবে আপনাদের শুদ্ধ করবো। যে খারাপ কাজ করেছেন তা বাদ দিয়ে আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাবো।’

বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায় জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘সবাই যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারে। সেজন্যই আমরা নির্বাচন কমিশনে আমাদের কিছু কথা ইসির সংস্কারের জন্য দিয়ে এসেছি। বলেছি যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে হয় তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশনকে বলি, সেনা মোতায়েন করতে হবে, ইভিএম হবে না।’

সিইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনারদের বলতে চাই, অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকবে এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। হাসিনার গুণ্ডাবাহিনীর হাতে অবৈধ অস্ত্র। তারা মানুষকে খুন করছে। সেনা না দিলে হাসিনার গু-াবাহিনী কেন্দ্র দখল করে অত্যাচার চালাবে। এদেশের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে জিয়াকে ভুলে নাই। তিনি আছেন মানুষের মনে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছিলো আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের। তার জন্য তারা কতোদিন হরতাল করেছে। ১৭৩ দিন। রাস্তাঘাট বন্ধ রেখেছে। হরতালের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেতলে দিয়েছে। অফিসগামী বয়ষ্ক লোকতে তারা দিগম্বর করেছে। এগুলো আ.লীগের চরিত্র। তারা তত্ত্বাবধায়কের দাবির জন্য সমুদ্রবন্দর দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছে। বাসে আগুন দেয় আ.লীগ। যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে আ.লীগ। এদের অপকীর্তির শেষ নাই।’

সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/politics/43046.online