Author Archives: admin

পৃথিবীর কিছু অদ্ভূত জনগোষ্ঠী

প্রতিদিনই পৃথিবী বদলাচ্ছে। গতদিনের চেয়ে উন্নত করছে বিশ্ব। বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ কত কিছুই না করছে। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে প্রতিনিয়ত। অনেক অদেখা, অজানা জায়গার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মানুষ পৌঁছে গেছে চাঁদে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে বসবাসের কথাও উঠেছে। কিন্তু পৃথিবীতে এখনও কিছু মানব গোষ্ঠী রয়েছে; যারা এখনও পৃথিবীর সভ্যতা সম্পর্কে জানে না। আমরাও জানি না তাদের জীবনযাত্রা। চলুন জানা যাক পৃথিবীর কিছু বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী সম্পর্কে, যাদের অনেকে বাইরের পৃথিবীর কথা জেনেছে মাত্র কয়েক দশক আগে, আবার অনেকে এখনো জানেই না কিছু।


উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ; 
১৮৮০ সালে প্রথম ব্রিটিশরা আন্দামান এলাকা জরিপের সময় এই জনগোষ্ঠীর খোঁজ পায়। সেসময় ব্রিটিশদের নিয়ম ছিল কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে প্রথম দেখা হলে তাদের উপহার দিয়ে স্বপক্ষে নেয়ার চেষ্টা করা। সে অনুযায়ী ব্রিটিশরা একজনকে নিয়ে এসে নানারকম উপহার দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দ্বীপের জঙ্গলের ভেতর প্রবেশের পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিছুদিন পর ব্রিটিশরা চারজন আদিবাসীকে সমুদ্রের তীরে খুঁজে পায়। চারজনের মধ্যে দুজন ছিল পূর্ণবয়স্ক, দুজন কম বয়সী। তাদের উদ্ধার করে আনার পরপরই পূর্ণবয়স্ক দুজন মারা যায়, ধারণা করা হয় কোনো অসুখে মারা গিয়েছিল তারা। কম বয়সী দুজনকে উপহার দিয়ে ফেরত পাঠানো হলে আগের মতোই হারিয়ে যায়। এরপর ব্রিটিশরা এই জনগোষ্ঠীর উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

খুব সম্ভবত এই জনগোষ্ঠীর সাথে আধুনিক মানুষের সরাসরি যোগাযোগ এখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ১৯৬৭ সাল থেকে ভারত সরকার সেন্টিনেল দ্বীপের আদিবাসীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করে, কিন্তু কখনোই সফল হতে পারেনি। প্রতিবারই নৌকায় করে দ্বীপের কাছাকাছি গেলে আদিবাসীরা তীর মারা শুরু করে। ২০০৬ সালে দুজন জেলে অবৈধভাবে দ্বীপের কাছে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ভুল করে দ্বীপের কাছে চলে যায়। সেন্টিনেলিজরা দুজনকেই হত্যা করে এবং তীরের কাছে কবর দেয়। এরপর সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কর্মকর্তারা সেই লাশ উদ্ধার করতে যেতেও অস্বীকৃতি জানায়।


সেন্টিনেলিজ, ভারত মহাসাগর
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপে এই জনগোষ্ঠীর বসবাস। সেন্টিনেলিজ নামটা আসলে গবেষকদের দেয়া, কারণ খুব সম্ভবত এরাই পৃথিবীর একমাত্র জনগোষ্ঠী যাদের সাথে আধুনিক পৃথিবীর কোনো যোগাযোগ নেই।। ফলে তারা তাদের কী নামে ডাকে সেটা জানা যায়নি। দ্বীপের নামানুসারে তাদের সেন্টিনেলিজ ডাকা হয়।

ভারতীয় আদমশুমারি সংস্থা বিভিন্ন সময় দ্বীপের মোট জনসংখ্যা বের করার চেষ্টা করেছে কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা কখনোই জানা সম্ভব হয়নি। হেলিকপ্টার এবং দূর থেকে পর্যবেক্ষণে ২০০১ সালে ৩৯ জনকে চিহ্নিত করেছিল। প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপের এটিই যে প্রকৃত জনসংখ্যা না সেটা সহজেই বলা যায়। ২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামির কী প্রভাব পড়েছিল সেন্টিনেলিজদের উপর সেটা দেখার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী হেলিকপ্টার দিয়ে জরিপ করার চেষ্টা করেছিল। এ সময় তারা খাবার এবং সাহায্য দ্রব্যাদি তীরে ফেলে উপর থেকে। কিন্তু হেলিকপ্টার দ্বীপের উপরে যাবার কিছুক্ষণ পরেই জঙ্গল থেকে সেন্টিনেলিজরা হেলিকপ্টার বরাবর তীর মেরে আক্রমণ করলে হেলিকপ্টার সরে আসে। সুনামিতে যে দ্বীপবাসীরা একেবারেই হারিয়ে যায়নি তারই প্রমাণ দেয় এই আক্রমণ।

ভারত সরকার এবং ন্যাশনাল জিওগ্র্যাফির বিভিন্ন সময়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে সেন্টিনেলিজদের মধ্যে কৃষি ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। এরা মূলত বন্য পশু শিকার, মাছ ধরে খাবার সংগ্রহ করে থাকে। এদের ঘরবাড়িগুলোর কোনো দেয়াল নেই, শুধু মাথার উপর ছাউনির মতো থাকে। আশেপাশে কুড়িয়ে পাওয়া ধাতব সামগ্রী দিয়ে অল্প কিছু জিনিস বানাতে পারলেও ধাতু দিয়ে বেশি কিছু বানাতে পারে না। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এরা আগুন জ্বালাতে পারে না, অন্তত বিশেষজ্ঞদের এটাই ধারণা।

বর্তমানে এই দ্বীপের সাথে যোগাযোগের এবং যাবার সকল প্রকার চেষ্টা আইনত দণ্ডনীয়। তবে সরকার এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা সেন্টিনেলিজদের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম খুঁজে পেতে এখনো উৎসাহী।


করোওয়াই, ইন্দোনেশিয়া
পরবর্তীতে বিভিন্ন খ্রিস্টান মিশনারী দল করোওয়াইদের মাঝে গিয়ে থাকা শুরু করে এবং আধুনিক সভ্যতার সাথে পরিচিয় ঘটানোর চেষ্টা করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সফল হয়নি। ১৯৮০ সালের পর থেকে অনেক করোওয়াই তাদের জঙ্গল ছেড়ে আশেপাশের গ্রামে বাস করা শুরু করে। মূলত শিকার এবং হর্টিকালচারের মাধ্যমে এরা জীবিকা নির্বাহ করে। ১৯৯০ এর প্রথম থেকে করোওয়াইদের এলাকায় কিছু ট্যুরিস্ট যেতে শুরু করে। আধুনিক সভ্যতার সাথে পরিচয় ঘটলেও তারা সেই আগের মতোই রয়েছে। এখনো তীর-ধনুক দিয়ে শিকার করে, পাথরের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে এবং পোশাক পরে না বললেই চলে!

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম পাপুয়া রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বে বাস করা করোওয়াইদের ১৯৭৪ সালের আগে বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না! পাপুয়া নিউ গিনির সীমান্তের কাছে জঙ্গলে এদের বাস। তাদের বিশ্বাস ছিল তারা তাদের এলাকা ছেড়ে বের হলে সবাই মারা যাবে।

১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ হয় করোওয়াইদের। এইল্যানডেন নদীর ১২ মাইল পূর্বে একটি অভিযাত্রী দল ৩০ জন করোওয়াই-এর দেখা পান। তবে নতুন মানুষ দেখে আক্রমণ করে বসেনি তারা, ফলে তাদের সাথে যোগাযোগের একটা সূচনা ঘটে সেখানে।

করোওয়াইদের ভাষাকে বলা হয় করোওয়াই ভাষা, এটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব পাপুয়ার ভাষাগোত্রের অন্তর্গত। ডাচ মিশনারীরা এই ভাষার একটি ব্যাকরণ এবং অভিধানও তৈরি করেছে।

গবেষকদের ধারণা করোওয়াইরা বর্তমানে তাদের মানুষখেকো স্বভাব থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে করোওয়াইদের অনেকেই দাবি করে তারা কিছু ধর্মীয় বিধানের জন্য এখনো মানুষখেকো রয়ে গিয়েছে। অনেক গোত্র বিদেশী এবং বাইরের লোকদের আক্রমণ না করলেও অনেকেই ধারণা করে যে জঙ্গলের ভেতরে আরো গোত্র থাকতে পারে যারা এখনো বাইরের লোকদের সাক্ষাৎ পায়নি।

গাছের উপরে ঘর বানানো করোওয়াইদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এদের ঘরগুলো গাছের বেশ উপরে বানানো হয়, এর ফলে তারা অন্যান্য গোত্রের সাথে যুদ্ধে অনেক সুবিধা পায়। উপরে বানানোর কারণে কেউ সহজে আগুন ধরিয়ে ক্ষতিও করতে পারে না। ঘন জঙ্গলে থাকার পরেও আলো-বাতাসের সমস্যা হয় না।


ম্যাস্কো-পিরো, আমাজন
বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর কথা হবে আর আমাজন আসবে না তা কি আর হয়। খুব সম্ভবত আমাজনেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী যাদের অনেকের কথা আমরা এখনো জানিই না। সেরকমই প্রায় অজানা এক গোষ্ঠী হচ্ছে ম্যাস্কো-পিরো।

১৮৯৪ সালে কার্লোস ফিৎজক্যারাল্ড মাস্কো-পিরোদের বিশাল একটা অংশকে হত্যা করে। এরপর ম্যাস্কো-পিরোরা আমাজনের একেবারে ভেতরে চলে যায় এবং দীর্ঘদিন তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে হেলিকপ্টার থেকে ২০ জন ম্যাস্কো-পিরোকে ভিডিও করা হয় অ্যাল্টো পুরুস জাতীয় পার্কের উপর থেকে। ২০১৩ সালে বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী একদল ম্যাস্কো-পিরো তাদের জঙ্গলের পাশের লোকদের থেকে সাহায্যের জন্য এসেছিল। এ ঘটনার পর পেরু সরকার ম্যাস্কো-পিরোদের সাথে সাধারণ জনগণের যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘদিন সভ্যতার বাইরে থাকা এই জনগোষ্ঠী যেন সহজে রোগে আক্রান্ত না হয় তাই এই নির্দেশনা।

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের জুনে, ব্রাজিলে। ৭ জন ম্যাস্কো-পিরো এনভিরা নদীর তীর থেকে পাশের সিম্পাটিয়া গ্রামে আসে সাহায্যের জন্য। খুব সম্ভবত ড্রাগ চোরাচালানকারীদের আক্রমণের শিকার হচ্ছিল তারা, তাদের হাত থেকে রক্ষার জন্যই সাহায্য চাইতে এসেছিল। প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ শক্তির জন্য, তবে চিকিৎসার মাধ্যমে সবাইকেই সুস্থ করে তোলা হয়।

ম্যাস্কো-পিরোরা সহজে বাইরের মানুষদের আক্রমণ করে না, তবে কয়েকবার সাধারণ মানুষ হত্যার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি একটি গ্রাম আক্রমণ করে খাবার এবং বিভিন্ন সামগ্রী লুন্ঠনের অভিযোগ পর্যন্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে সব মিলিয়ে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে তারা। আধুনিক মানুষের সংস্পর্শে এলেও নিজেদের তারা এখনো সেই আগের মতোই রেখেছে। অন্যান্য বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর মতো তীর-ধনুক এবং বর্শা তাদের প্রধান অস্ত্র, পোশাক আশাকের বালাইও নেই বললেই চলে।

ব্রাজিল এবং পেরু ম্যাস্কো-পিরোদের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে প্রধান বাধা হচ্ছে ভাষা। ম্যাস্কো-পিরোদের ভাষা পুরোপুরি জানে এমন কেউ নেই। ইয়েনে গোত্রের লোকেরা কিছুটা বুঝলেও পুরোটা বুঝে না। ফলে ভাষা সমস্যার কারণে এখনো ভালভাবে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।


আওয়া, ব্রাজিল
বিলীন হয়ে যাওয়ার হুমকিতে থাকা আওয়াদের বাস ব্রাজিলে আমাজনের পূর্বদিকে। ১৮০০ সালের দিকে ইউরোপিয়ানদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এরা জঙ্গলে চলে যায় এবং এখনো সেখানেই বসবাস করে। ১৯০০ সালের পর থেকে ব্যাপকহারে গাছ কাটার ফলে এবং আওয়াদের উপর স্থানীয়দের নানারকম অত্যাচারের কারণে তাদের সংখ্যা কমতে কমতে এখন মাত্র ৩০০ তে এসে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ১০০ জন বাইরের পৃথিবীর সাথে কখনোই কোনো যোগাযোগ করেনি।

আওয়ারা বাইরের পৃথিবীর সাথে অল্প কিছু যোগাযোগ করলেও তারা তাদের ঐতিহ্য মতেই জীবনযাপন করে। তারা মূলত পশু শিকারী, তবে সব পশু শিকার করে না। তাদের নিষিদ্ধ পশুর তালিকা আছে, সেই সাথে আছে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পশু হত্যা না করার নিয়ম। তাদের শিকারের মূল অস্ত্র তীর-ধনুক আর বর্শা।

আওয়ারা বাইরের মানুষদের সরাসরি আক্রমণ না করলেও বাইরের মানুষের আক্রমণে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আমাজনে অবৈধ কাঠের ব্যবসায়ীদের অত্যাচার থেকে আওয়াদের বাঁচাতে ব্রাজিলিয়ান সরকার সেনাবাহিনী পর্যন্ত নামিয়েছিল ২০১৪ সালে। সরকার তাদের জন্য আলাদা জায়গা করে দিলেও অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার থেকে কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না আওয়াদের। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই এখন লড়তে হচ্ছে আওয়াদের।


সুর্মা, দক্ষিণ সুদান/ইথিওপিয়া
দক্ষিণ সুদান এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ইথিওপিয়ায় বাস করা সুর্মা জনগোষ্ঠীর মানুষদের চেনা যায় তাদের অদ্ভুত সব শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য। এসব বৈশিষ্ট্য তাদের জন্মগত নয়, বরং কৃত্রিমভাবে তারা শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে। সেই সাথে রয়েছে শরীরে বিভিন্ন রকমের রঙ দিয়ে আঁকা কারুকার্য।

সুরি, মুরসি এবং মীন- এই তিনটি গোত্র নিয়ে সুর্মা জনগোষ্ঠী। তিন গোত্রের সংস্কৃতিও মূলত একই রকম। বিচ্ছিন্ন এবং দুর্গম পাহাড়ে বাস করতেই বেশি পছন্দ করে এরা। আশপাশের গোত্রের সাথে লড়াইটাও অনেকটা ঐতিহ্যগত এদের জন্য। তবে অন্যান্য বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে পার্থক্য হলো এরা আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে। সুদানের গৃহযুদ্ধের সুবাদে এই বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর হাতেও উঠে এসেছে একে-৪৭ এর মতো আধুনিক মারণাস্ত্র।

কৃষিকাজ করেই মূলত সুর্মারা জীবন ধারণ করে থাকে। টোবাকো, কফি, বিভিন্ন জাতের কপি চাষ করে থাকে। বিভিন্ন গোত্রের সাথে বিনিময় করে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে সুর্মারা। সিংহের চামড়া, জিরাফের লেজ, হাতির দাঁতের বিনিময়ে অস্ত্র সংগ্রহ করে আমহারা এবং শানগালাদের কাছ থেকে।

সুর্মারা বিচ্ছিন্ন হলেও আমাজন জঙ্গলের মতো একেবারে বিচ্ছিন্ন না। অন্যান্য জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাস করলেও এরা অন্যদের থেকে যথেষ্ট উন্নতই বলা যায়, আধুনিক অটোমেটিক অস্ত্রের ব্যবহার এর বড় প্রমাণ।

মেয়েরা বয়োঃসন্ধিতে পৌঁছলে তাদের নিচের পাটির সব দাঁত ফেলে দিয়ে নিচের ঠোঁট ছিদ্র করা হয়। এরপর সেখানে একটি প্লেট বসিয়ে দেয়া হয়। তাদের সংস্কৃতিতে যার প্লেট যত বড়, সে তত সুন্দর! প্লেটের উপর অনেক কারুকার্যও করা থাকে। তবে বর্তমানে অনেক সুর্মা মেয়েরা এই ঐতিহ্য আর পালন করে না।

 

সুত্রঃ breakingnews

আন্তর্জাতিক চাপকে ভয় করে না মিয়ানমার: সু চি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তোপের মুখে পড়েছেন দেশটির নেত্রী অং সান সুচি। তবে কোনও ধরনের আন্তর্জাতিক চাপকে ভয় করেন না বলে জানান এই নেত্রী। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তোপের মুখে পড়েছেন দেশটির নেত্রী অং সান সুচি। তবে কোনও ধরনের আন্তর্জাতিক চাপকে ভয় করেন না বলে জানান এই নেত্রী। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক নিরীক্ষণের ভয় করি না।’ একইসঙ্গে রাখাইনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানান।

তবে বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে যাচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, যেকোনও ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানাই্ আমি। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জন্য যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২৫ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি পুলিশ ক্যাম্পে হামলার পর সামরিক অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। অভিযানে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়ি। বিষয়টি নিয়ে কথা না বলায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েন সু চি। তারপর এবারই প্রথম মুখ খুললেন সু চি।

সু চি বলেছেন, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে তার সরকার কাজ করবে। এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সুত্রঃ banglatribune

সরকারি হলো ১২ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

দেশের ১২টি বেসরকারি উচ্চমাধ্যমিক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়েছে।  এ বিষয়ে আজ সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এসব কলেজে কর্মরত শিক্ষকরা অন্য কোথাও বদলি হতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

সরকারি কলেজগুলো হলো- রাজধানীর মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লালবাগ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এসব কলেজকে খুব দ্রুত সরকারি বিধি-বিধানের আওতায় এনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

উত্তর কোরিয়া কতটা শক্তিশালী?

উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দেশটির দক্ষতা ও ক্রমবর্ধমান শক্তিকেই তুলে ধরছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনায় ইন্ধন জোগাচ্ছে। তাদের অগ্রগতি দ্রুত। দেশটি ৩ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে বড় পরমাণু পরীক্ষা চালায়। এ ছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর জাপানের ওপর দিয়ে তারা দ্বিতীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

চলতি বছরে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা এটাই প্রমাণ করে যে তারা ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে সফল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডসহ দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা তাদের তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মে মাসে উত্তর কোরিয়া হাসোং-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, ওই ক্ষেপণাস্ত্র সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামের মার্কিন ঘাঁটি এর সীমার মধ্যেই রয়েছে।

তবে দেশটি গত জুলাইয়ে হাসোং-১৪ ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি পরীক্ষা চালায়, যার সক্ষমতা আরও বেশি এবং সম্ভবত ওই ক্ষেপণাস্ত্রই উত্তর কোরিয়ার প্রথম সত্যিকার আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি হাসোং-১২-এর দুই ধাপ অগ্রগামী সংস্করণ। এর সম্ভাব্য সীমা আট হাজার কিলোমিটার, যা নিউইয়র্কে আঘাত হানতে সক্ষম।

গত আগস্টে জাপানের ওপর দিয়ে হাসোং ১২ ক্ষেপণাস্ত্রের দ্বিতীয় পরীক্ষা চালানো হয়। এটা ছিল জাপানের ওপর দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা। একে ‘নজিরবিহীন হুমকি’ বলে বর্ণনা করা হয়। আর ১৫ সেপ্টেম্বর ওই ক্ষেপণাস্ত্রেরই দ্বিতীয় পরীক্ষা চালানো হয়, যা আগস্টে চালানো পরীক্ষার চেয়ে আরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে। এতে করে প্রতীয়মান হয়, উত্তর কোরিয়া পাল্লা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির আরও উন্নতি ঘটিয়েছে।

 

এসব পরীক্ষার আপাত সাফল্য উত্তর কোরিয়া কীভাবে এত দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়ন ঘটিয়েছে, সেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) মাইকেল এলিম্যানের মতে, পিয়ংইয়ং সম্ভবত রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবৈধ নেটওয়ার্ক থেকে উচ্চ কর্মক্ষমতার লিকুইড-প্রোপেল্যান্ট ইঞ্জিন সংগ্রহ করেছে।

এর আগে পিয়ংইয়ং দুটি আইসিবিএম প্রদর্শন করে, যা কেএন-০৮ ও কেএন-১৪ নামে পরিচিত। এখন পর্যন্ত তারা ওই ক্ষেপণাস্ত্র দুটির পরীক্ষা চালায়নি। ওই দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক কী, তাও পরিষ্কার নয়। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দাদের এখনকার ধারণা, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ভেতরে স্থাপনে সক্ষম পরমাণু বিস্ফোরক মুখ তৈরিতেও সফল হয়েছে।

পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সাল থেকে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করার পর এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি চালিয়েছে ৩ সেপ্টেম্বর। ওই পরীক্ষার সময় ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। যেটি ছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে চালানো পরীক্ষার চেয়ে ১০ গুণ শক্তিশালী। ৩ সেপ্টেম্বর যে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়, তার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ১০০ থেকে ৩৭০ কিলোটন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১০০ কিলোটন ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমাটির চেয়ে ছয় গুণ বেশি শক্তিশালী।

উত্তর কোরিয়া দাবি করে, ৩ সেপ্টেম্বর যে অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়, সেটা ছিল হাইড্রোজেন (থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়েপন) বোমা। ওই দিন তারা এই অস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালায়। পরমাণু বোমার চেয়ে হাইড্রোজেন বোমা কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী।

উত্তর কোরিয়া ১৯৮০-এর দশকে পরমাণু কর্মসূচি শুরু করে। ২০০৬ সালে তারা দশমিক ৭ কিলোটনের পরমাণু বোমার প্রথম পরীক্ষা চালায় বলে ধারণা করা হয়।

সামরিক বাহিনী

সামরিক খাতে উত্তর কোরিয়ার কী পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে, তা পরিষ্কার নয়। তবে দেশটির শাসননীতি হলো ব্যয়ের ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এই শাসননীতি ‘সংগুন’ নামে পরিচিত।

উত্তর কোরিয়ার রয়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম স্থায়ী বাহিনী। তবে বাহিনীর সরঞ্জাম সেকেলে। এরপরও যুদ্ধ বাধলে দেশটির প্রচলিত বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

১০ লাখের বেশি সদস্যের স্থায়ী বাহিনীর বাইরে দেশটির রিজার্ভ ফোর্স আছে ৫০ লাখ। বিশেষ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। যেকোনো ধরনের সংঘাতে এই বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা দক্ষিণ কোরিয়ায় ঢুকে পড়তে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

আরেকটি সম্ভাব্য হুমকি হলো, দেশটি সীমান্তজুড়ে গোলা ও রকেট লঞ্চার মোতায়েন রেখেছে। সেগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। যুদ্ধের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন সম্প্রতি সামরিক ব্যয় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কোরীয় যুদ্ধের সময় থেকে কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যে পরিমাণ সেনা মোতায়েন রয়েছে তা বিশ্বের অন্য স্থানে মোতায়েন করা সেনাসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ধারণা, বিমানবাহিনীর নয় হাজার সদস্যসহ দেশটিতে বর্তমানে ২৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় ৩০০টি এম ১ আব্রামস ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড স্থাপন করেছে। যুদ্ধ বাধলে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উত্তর কোরিয়ার স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ধারণা, বিশ্বের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি রয়েছে জাপানে। সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাসংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। এদের বেশির ভাগই বিমানবাহিনীর। মার্কিন সপ্তম বহরের সদর দপ্তর জাপানের ইয়োকোসুকায় অবস্থিত। সেখানে ইউএসএস রোনাল্ড রিগানসহ মোতায়েন রয়েছে ২০টি জাহাজ।

 

সুত্রঃ prothom-alo

কোরিয়ার আকাশে হঠাৎ মার্কিন যুদ্ধ বিমান

উত্তর কোরিয়ার ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক পরমাণু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাল্টা জবাব হিসেবে কোরীয় উপদ্বীপে আকাশ তোলপাড় করল মার্কিন স্টিলথ ফাইটার জেট ও বোমারু বিমান।

সোমবার হঠাৎ করে কোরীয় উপসাগরের আকাশে দেখা গেল ৪টি মার্কিন স্টিলথ ফাইটার জেট ও ২টি বি-১বি বোমারু বিমান। উত্তর কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমার ক্ষমতা পরখ করার জন্যই ওই মহড়া বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র ‌যে মার্কিন ‌যুক্তরাষ্ট্রেও আঘাত হানতে সক্ষম তা প্রকাশ্যে বলেছে কিমের দেশ। সম্প্রতি হাইড্রোজেন বোমাও পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। এমনকি জাপানকে ডুবিয়ে দেয়ার ক্ষমতাও তারা রাখে বলেও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশ তোয়াক্কা না করেই গত ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া তাদের ষষ্ঠ পরমাণু বোমা পরীক্ষা করে। পাশাপাশি গত শুক্রবার জাপান সাগরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে কিমের কোরিয়া।

বার বার কিমের গর্জনের পাল্টা হুশিয়ারি দিতেই সোমবার ক্ষমতা প্রদর্শন করল মার্কিন ‌যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানের সঙ্গে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ৪টি এফ-১৫কে ‌যুদ্ধবিমানও।

মার্কিন ‌যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে হুমকি দিয়েছে, পিয়ংইয়ং ‌যদি তার অস্ত্র পরীক্ষা না থামায় তাহলে তাকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। সোমবারের বিমান মহড়ার পর দু’দেশের সংঘাত অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

সুত্রঃ jugantor

ইনসেপ্টার ৩০ লাখ টাকা ত্রাণের ২৭ লাখই আত্মসাৎ

কুড়িগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেয়া ইনসেপ্টার ৩০ লাখ টাকা ত্রাণের সাড়ে ২৭ লাখ টাকাই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণের টাকা আত্মসাতের পর থেকে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের জেলা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সাবেক ইউপি সদস্য আত্মগোপন করেছেন। ভুক্তভোগী ৫১টি পরিবার অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তাদির চৌধুরী কুড়িগ্রাম জেলার ভিটেমাটি হারা ৫১টি পরিবারকে দুই ক্যাটাগরিতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেন। সর্বশেষ শনিবার ঘরবাড়ি মেরামতসহ মাসের খাদ্য সহায়তা হিসেবে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ১০টি দুস্থ পরিবারকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে দেন রংপুর অফিসে। প্রতারক সিন্ডিকেট চক্রটি অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রত্যেককে ৪-৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করে। উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়ার সৈয়দ আলীর স্ত্রী কাঞ্চনমালা (৩৮), ধনারবি দাসের স্ত্রী মালতি রবিদাস (৪০), নেছাব উদ্দিনের স্ত্রী আজিরন বেগম (৫২), মাহিলা বেগম (৪৫), কদমতলা গ্রামের ভগলু হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন (৪৮), রাজেনের স্ত্রী স্বরবালা (৪৫), আবির উদ্দিনের স্ত্রী ছবিরন নেছা (৫০), অনন্তপুর ঘাটের কফুল্লা আলী (৭০), পালপাড়ার মোহনের স্ত্রী ছবিতা রাণী দাস (৫২) ও তাঁতীপাড়ার কানুর স্ত্রী বৃন্দেশ্বরী (৭০) প্রতারণার স্বীকার হন।

কাঞ্চনবালা জানান, ‘সাহেব আলী ও একজন অফিসার একদিন এসে হামার নাম-ঠিকানা লিখি নিয়া যায়। পরে শনিবার সকালে হামার এলাকার ১০ জনকে মাইক্রোত করি রংপুর নিয়া যায়। সেখানে টাকা নিয়া হামরা গাড়িত চড়ি। সবার খামত তিন হাজার করি টাকা আর নাস্তার জন্য এক হাজার টাকা দিয়া কয় বাকি টাকা মেলা খরচ হইছে। কিন্তু সাহেব আলীক কই এটে বলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আছে। বাকি টাকা কাই নিবে। তখন সাহেব আলী বলেন, এত প্রশ্ন করলে আর কারও সাহায্য আসলে তোমাক ডাক দিমো না।

ডেপুটি সেলস ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, আমাদের এমডি স্যার সাহায্য-সহযোগিতা করেন ঠিকই। তবে কাকে কত করে সাহায্য করেছেন তা বলা মুশকিল। তিনি যেভাবে দান করেন তাতে মোটা অংকের টাকাই থাকে। তবে কতজনকে কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে এটা কুড়িগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম ও রংপুরের আজাদ সাহেব বলতে পারবেন। কেউ যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন তাহলে স্যারকে বলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের রংপুর ডিস্ট্রিবিউশনে কর্মরত আবুল কালাম আজাদ জানান, এমডি কবে এবং কতজনকে টাকা দিয়েছেন তা আমার জানা নেই। ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে থাকায় এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে পারব না। এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার মাইনুল সাহেব সব জানেন। কুড়িগ্রামের দায়িত্বে থাকা এরিয়া ম্যানেজার মাইনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি মোবাইলে জানান, অফিস থেকে তালিকা করে টাকা দিয়েছে। কারা তালিকা করেছে এবং কত টাকা দেয়া হয়েছে প্রশ্ন করলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।

হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, এ ঘটনা শোনার পর আমি সাহেব মেম্বারকে ফোন দিলে তিনি জানান, ৫০-৬০ হাজার টাকা নয়, ১০ হাজার টাকা ছিল প্রতি খামের মধ্যে। জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি টাকা যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ বাবদ কেটে নেয়া হয়।

ঢাকা মেট্রো-গ-১৪১১৮৮ নাম্বারের মাইক্রোবাসের ড্রাইভার আনোয়ারুল জানান, শনিবার সকালে সাহেব আলী আমার মাইক্রোটি রংপুর যাওয়া-আসার জন্য দু’হাজার টাকায় ভাড়ায় নেন। সন্ধ্যার দিকে ফেরার পথে সাত মাথার ওখানে এসে খাবারের জন্য আমাকে ১২০ টাকা দেয়। তখন আমি খেতে যাই। এ সময়ে গাড়িতে টাকা ভাগাভাগির ঘটনা ঘটলেও আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।

সুত্রঃ jugantor

ফেসবুকে যাদের কখনই ব্লক করা যায় না

নিউজ ডেস্কঃ
অনেক সময়ই কাউকে পছন্দ না হলে বা কারোর সঙ্গে ঝামেলা হলে মুহূর্তের মধ্যে আমরা তাদের ফেসবুক থেকে ব্লক করে থাকি৷ আর সেটা করতে এক মিনিটেরও কম সময় লাগে৷ কেবল তাদের প্রোফাইলে গিয়ে ব্লক বাটনে ক্লিক করতেই ব্লক হয়ে যায় তারা৷ কিন্তু এটা এতটা সহজ নয় যদি আপনি ফেসবুকের ফাউন্ডার মার্ক জুকারবার্গকে ব্লক করে চান৷ ফেসবুকের ফাউন্ডার মার্ক জুকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রীকে আপনি চাইলেও ফেসবুক থেকে ব্লক করতে পারবেন না ৷

অন্য কাউকে ব্লক করতে চান তাহলে আপনার কাছ থেকে ফাইনাল কনফারমেশন চাওয়া হয়ে থাকে৷ আপনি তাতে সম্মতি জানালে তবেই তাকে ব্লক করা সম্ভব৷ কিন্তু এদের ক্ষেত্রে ব্লকের বাটন ক্লিক করতেই ব্লক এরর দেখাতে শুরু করে৷ অথার্ৎ তাদের ব্লক করা সম্ভব নয়৷

ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে একটা সীমা পর্যন্ত ব্লক করা যেতে পারে৷ বলা হয় ফেসবুকের ফাউন্ডার ও তাঁর স্ত্রীকে গোটা বিশ্বে একাধিকবার ব্লক করা হয়ে গেছে৷ তাই এখন আর অন্য ব্যক্তিরা তাদের ব্লক করতে পারবে না৷

মিয়ানমারকে অস্ত্র দেয় কারা?

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে মিয়ানমার। সে সময় থেকেই দেশটির রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে প্রভাব খাটিয়েছে সেনাবাহিনী।

অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার শাসন করেছে সেনাবাহিনী। ১৯৯০ সালের শুরু থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জারি করে।

২০১২ সালে মিয়ানমার তথাকথিত গণতন্ত্রের পথে আসে। সে সময় এসব অবরোধ কিছুটা শিথিল হয়। যদিও এখনো দেশটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর।

১৯৯০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে। এ ছাড়া ভারত, ইসরায়েল, ইউক্রেনও মিয়ানমারের বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।

১৯৯০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান কিনেছে চীনের কাছ থেকে। চীন থেকে ১২০টি যুদ্ধবিমান কিনেছে মিয়ানমার। রাশিয়া থেকে ৬৪, পোল্যান্ড থেকে ৩৫টি, জার্মানি থেকে ২০টি, সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে ১২টি, ভারত থেকে ৯টি, সুইজারল্যান্ড থেকে ৩টি ও ডেনমার্ক থেকে ১টি যুদ্ধবিমান কিনেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

এই সময় পর্যন্ত মিয়ানমারে সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হলো রাশিয়া। রাশিয়া থেকে মিয়ানমার কিনেছে ২ হাজার ৯৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র। এরপরেই রয়েছে চীন। চীনের কাছ থেকে কিনেছে ১ হাজার ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র। বেলারুশ থেকে ১০২টি, বুলগেরিয়া থেকে ১০০টি ও ইউক্রেন থেকে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে মিয়ানমার।

২৬ বছরে নৌজাহাজ কিছুটা কম কিনেছে মিয়ানমার। ২১টি নৌজাহাজ কিনেছে চীন থেকে। সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে তিনটি ও ভারত থেকে কিনেছে তিনটি নৌজাহাজ।

সাঁজোয়া যানও চীন থেকে সবচেয়ে বেশি কিনেছে মিয়ানমার। ৬৯৬টি সাঁজোয়া যান কিনেছে চীন থেকে। ইসরায়েল থেকে ১২০টি, ইউক্রেন থেকে ৫০টি ও ভারত থেকে কিনেছে ২০টি সাঁজোয়া যান।

এই সময়ে মিয়ানমার সবচেয়ে বেশি কামান (আর্টিলারি) কিনেছে চীনের কাছ থেকে। চীন থেকে কিনেছে ১২৫টি কামান। এরপর সার্বিয়া থেকে ১২০টি, রাশিয়া থেকে ১০০টি, ইসরায়েল থেকে ২১টি, উত্তর কোরিয়া থেকে ১৬টি ও ভারত থেকে ১০টি কামান কিনেছে।

সুত্রঃ prothom-alo

রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদে আ.লীগ-বিএনপি এক মঞ্চে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার প্রতিবাদ এবং নির্যাতন বন্ধের দাবিতে সিলেটে এক মঞ্চে বক্তব্য দিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারাও।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জুম্মার নামাজের পর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে মহানগর ইমাম সমিতি আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাওলানা শিহাব উদ্দিন।

এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং ইমাম সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এরআগে সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার নগরীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে কোর্ট পয়েন্টে এসে জড়ো হন মুসল্লিরা। ফলে মুহূর্তেই হাজারো জনতা উপস্থিত হয়। যান চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয় কোর্ট পয়েন্ট সড়কে। এসময় প্রতিবাদী জনতা অং সান সুচির কুশপুত্তলিকাও দাহ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকারকে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা দিতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশ থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে কুটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করতে হবে।

বক্তারা বলেন, মুসলিম রোহিঙ্গাদের রক্ত নিয়ে হুলিখেলা বিশ্বের মুসলিম আর সহ্য করবে না। রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি ফোটা রক্তের দাম মিয়ানমারের খুনি সরকার এবং জাতিসংঘকে দিতে হবে।

নেতারা বলেন, মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই অমানবিক গণহত্যা প্রতিরোধে আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মিয়ানমারের নিরীহ মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে গিয়ে দেখে আসায় ও তাদের সহযোগিতা ঘোষণা করায় ধন্যবাদ জানান।

এদিকে, বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে বের হওয়া হেফাজতে ইসলামের মিছিলটিও সিলেট সিটি পয়েন্টে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা সদরেও বিক্ষোভ হয়েছে।

সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/all-bd-divisions/37336.online

চার বছর পর আশরাফুলের সেঞ্চুরি


নিউজ ডেস্কঃ
বিপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে তিন বছরের বহিষ্কারাদেশ কাটিয়ে গত বছর জাতীয় লিগ দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। ৫ ম্যাচে রান ১২৩, সর্বোচ্চ ৩৯। বাজে খেলায় দল থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর হয়েছিল। এবার জাতীয় লিগে শুরুটা করেছেন দুর্দান্ত। চার বছর পর যেকোনো ধরনের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন আশরাফুল।

আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের বিপক্ষে প্রথম দিনে ভালো অবস্থানে আছে ঢাকা মহানগর। ৫ উইকেটে তাদের রান ২৫৪। মেহেদী হাসান রানার বলে উইকেটকিপার সাব্বিরের ক্যাচ হওয়ার আগে আশরাফুলের রান ১০৪। ফেরার আগে পঞ্চম উইকেটে মেহরাব হোসেন জুনিয়রের সঙ্গে আশরাফুল গড়েছেন ১৭৪ রানের জুটি। মেহরাব অপরাজিত আছেন ৬৫ রানে।

ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে যেকোনো ক্রিকেটে আশরাফুল সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০১৩ সালের মার্চে, গল টেস্টে। আর ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর সর্বশেষ তিন অঙ্ক ছোঁয়া ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। বগুড়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে মধ্যাঞ্চলের হয়ে করেছিলেন ১৩৩ রান।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর জাতীয় লিগে ভালো করতে পারেননি বলে সর্বশেষ বিসিএলে সুযোগ মেলেনি আশরাফুলের। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ফিরেছিলেন একদিনের ম্যাচে। কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে টানা সাত ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর অষ্টম ম্যাচে পেয়েছিলেন ফিফটি। প্রিমিয়ার লিগে ১০ ম্যাচে ২ ফিফটিতে করেছিলেন ২৪০ রান।

তবে মরচে পড়া ব্যাটে যে ধার ফিরেছে, সেটা এবার জাতীয় লিগের প্রথম দিনেই বোঝালেন আশরাফুল। অবশ্য হঠাৎ জ্বলে উঠে হারিয়ে যাওয়াও তাঁর জন্য নতুন নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার প্রায় অসম্ভব যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তার জন্য ধারাবাহিক তাঁকে হতেই হবে। ৩৩ বছর বয়সী আশরাফুল নিজেও সেটি সবচেয়ে ভালো জানেন।

সুত্রঃ prothom-alo

1 2 3 40