বাংলাদেশ

আলোচনার পথ খোলা রাখাই ভালো

আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আলোচনার পথ খোলা রাখাই ভালো। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এমন কথাই বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষা করছিলেন ওবায়দুল কাদের। পাশের আরেকটি কক্ষে মির্জা ফখরুল আছেন জেনে তার সঙ্গে দেখা করতে যান কাদের। পরে সাক্ষাতের এক পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

একাধিক রাজনৈতিক নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতারা জানান, ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুল ইসলামের দেখা হয়েছে। কুশল বিনিময় হয়েছে।

জানা গেছে, রোববার কাদের ও ফখরুলের ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজ কোম্পানির ফ্লাইটে সৈয়দপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মির্জা ফখরুল সফর স্থগিত করেন। ফলে একই ফ্লাইটে দুই বড় দলের দুই নেতার সাক্ষাতের সুযোগটি আর হয়ে উঠল না।পরে দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে ওবায়দুল কাদের ও ফখরুলের সঙ্গে কুশল বিনিময় হয়।

কুশল বিনিময়ের সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা এয়ারপোর্টে আপনার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। আপনার সফর স্থগিত হওয়ায় আমাকে চলে আসতে হয়েছে।যেহেতু রাজনীতি করি, আলাপ–আলোচনার পথ খোলা রাখা ভালো।’

এ সময় মির্জা ফখরুলকে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি সকালের ফ্লাইটেই আসতাম। কিন্তু পারিবারিক কারণে তা হয়ে ওঠেনি।

দুই নেতার কুশল বিনিময়ের সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুত্রঃ jugantor

কলকাতার বিভিন্ন সড়কে জিয়াউর রহমানের ছবি

নিউজ ডেস্কঃ
ব্রিটিশ ভারতে সবচেয়ে অভিজাত ও জগত্খ্যাত বিদ্যাপীঠ হেয়ার স্কুল তাদের প্রতিষ্ঠার দুইশত বার্ষিকী উদযাপনের প্রাক্কালে স্কুলের বিখ্যাত প্রাক্তন ছাত্রদের আলোকচিত্রের ফেস্টুন, ব্যানারে সাজিয়ে তুলেছে মহানগরী কলকাতাকে। সেখানে মিত্র, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, রমেশ চন্দ্র দত্ত, রামতনু লাহিড়ীসহ মহাকীর্তিমানদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম জিয়াউর রহমানের ছবি।

তার আলোকচিত্র এখন শোভা পাচ্ছে কলেজ স্ট্রিট, বিদ্যাসাগর স্ট্রিট, বউবাজার, পিয়ারী সরকার স্ট্রিট, প্রেসিডেন্সি কলেজ স্কয়ার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোহনায়। মূলত স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন ‘হেয়ার স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ তাদের স্কুলের স্বনামধন্য প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে নানা আয়োজন রেখেছে।

খোলা হয়েছে-(http://www.hareschoolalumni.com/alumni.php) নামের একটি ওয়েব পেজ। সেই ওয়েব পেজে বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর পাশে রাখা হয়েছে জিয়াউর রহমানকে। একই সঙ্গে হেয়ার স্কুলের উইকিপিডিয়াতে জিয়াউর রহমানসহ প্রখ্যাত প্রাক্তন ১৬ জন ছাত্রের নাম ও তাদের অবদান উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায়, স্কটিশ ঘড়ি ব্যবসায়ী ডেভিড হেয়ার ১৮১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তার নামে হেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমানের জন্ম। জিয়াউর রহমানের পিতা মনসুর রহমান কলকাতার এক সরকারি দফতরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জিয়াউর রহমান শৈশবে কিছুকাল বগুড়ার গ্রামাঞ্চলে এবং কিছুকাল কলকাতায় অতিবাহিত করেন। জিয়াউর রহমানের স্কুলজীবন শুরু হয় কলকাতায় ‘হেয়ার স্কুলে’।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তার পিতা করাচিতে বদলি হলে জিয়াউর রহমান কলকাতার হেয়ার স্কুল ছেড়ে করাচির একাডেমি স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন করাচিতে ‘করাচি একাডেমি স্কুল’ (বর্তমানে তাইয়েব আলী আলভী একাডেমি) থেকে। ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি ভর্তি হন করাচির ‘ডি জে কলেজে’। ১৯৫৩ সালে ‘পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে একজন অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। প্রসঙ্গত, জিয়াউর রহমানের নামে অনেক আগেই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১.৮ কিমি দীর্ঘ একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরেও জিয়াউর রহমানের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

সুত্রঃ bd-pratidin

রাজধানীতে ৯ দিন ৮ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না

নিউজ ডেস্কঃ
উপকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও ৯ দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। ইতোমধ্যেই দু’দিন পার হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে নগরবাসীকে।

১৯ নভেম্বর, রোববার : মিরপুর-১ এলাকা, আনসার ক্যাম্প, টোলারবাগ, শহীদ বুদ্ধিজীবী মাজার, ১০ নম্বর কমিউনিটি সেন্টার, এভিনিউ-৩, ব্লক-ই, ওয়াসা পাম্প, বেড়িবাঁধ এলাকা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, বিশিল, তুরাগ সিটি, সেকশন ১/এ, ১/ডি মিরপুর সেকশন-২ এলাকা, রূপনগর শিল্প এলাকা, কলওয়ালাপাড়া, জনতা হাউজিং, পশ্চিম মনিপুর এবং আশপাশের এলাকা, সেক্টর-১ (রোড-১১), জসীম উদ্দিন মোড় হতে রাজলক্ষ্মী পর্যন্ত ঢাকা ময়মনসিংহ রোডের পশ্চিমাংশ, সেক্টর-৩ (রোড-২, ১, ৩) সেক্টর-৭ (১, ৪, ৫, ৭, ৮, ৯, ৯/এ, ২৮), রবীন্দ্র সরণি এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

২১ নভেম্বর, মঙ্গলবার : কুড়িল, বিশ্বরোড, প্রগতি সরণি পশ্চিম অংশ, মোল্লাপাড়া, বড়বাড়ি, হোটেল রেডিসন, বারিধারা (রোড নং ১ থেকে ৬, ৯ থেকে ১৪), পার্ক রোড, লেক রোড, দূতাবাস রোড, বারিধারা ডিওএইচএস ইস্টার্ন রোড, মানিকদী, বারনটেক, বালুঘাট, শেওড়া, যমজ রোড, অলিপাড়া, লিচুবাগান, শেওড়াবাজার এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।

২২ নভেম্বর, বুধবার : নিকেতন আবাসিক এলাকা (রোড ৪ থেকে ১৪ পর্যন্ত এবং ব্লক-বি, ডি, ই ও এফ), গুলশান-১ (রোড-৭, ৮, ১২, ১৪ এবং আশপাশের এলাকা, উত্তরা সেক্টর-১৩ (রোড ৪, ১১ হতে ১৮ পর্যন্ত), সেক্টর-১৪ (রোড ১৬ হতে ২২ পর্যন্ত), গরিবে নেওয়াজ এভিনিউয়ের উত্তর পাশ, শাহ মখদুম এভিনিউ, উত্তরা খালপাড় এলাকা, চণ্ডাল ভোগ, দিয়াবাড়ি গোল চক্কর থেকে উত্তরা থার্ড ফেজ ১৮ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত, নয়ানগর এলাকা, রাজাবাড়ি, নলভোগ, ফুলবাড়িয়া এলাকা, রানাভোলা, তিতাস পাড়া, পাকুরিয়া যাত্রাবাড়ী ও হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

২৫ নভেম্বর, শনিবার : মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, রোড-১, ৩, ৮, ৯, এভি-৪, রোড-১৮, সেকশন-১১ এ, প্যারিস রোড। এ ছাড়া, রোড-২৮, ২৭, ৩১, ২৬, ৩২, ৩, ২৯, ১৭, ১৫; ব্লক-ডি, সেকশন-১০, এভি-৫, ব্লক-সি, বিহারি ক্যাম্প, ওয়াপদা ক্যাম্প, ওয়াসা রোড, রোড-৩, ৫, ৬, ৯, ৮, ৭, ১০, ঝুটপট্টি, বাউনিয়া বাঁধ এলাকা, রাড্ডা হাসপাতাল, পূর্ব মনিপুর, বিআরটিএ অফিস, আমতলা বাজার, পূর্ব বাইশটেকি, পলাশনগর, লালমাটিয়া এবং আশপাশের এলাকায় ওই দিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে।

২৬ নভেম্বর, রোববার : ইজতেমা মাঠ, আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল, বেড়িবাঁধের দক্ষিণ পাশের এলাকা থেকে শুরু করে ধৌড়ের মোড় পর্যন্ত, মেসার্স জরিনা কম্পোজিট ও অলিম্পিয়া টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লি. মেসার্স নিশাত জুট মিলস, ইজতেমা মাঠ, কামারপাড়া, মুন্নু নগর, ১০ নম্বর সেক্টর (১০, ২৫ ও ২৩ নম্বর রোড), রানাভোলা, আশুলিয়া রোড, বিআইডব্লিউটিসি ল্যান্ডিং স্টেশন ও ধউর সরকার বাড়ি রোড এবং আশপাশের এলাকায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে না।

২৭ নভেম্বর, সোমবার : কল্যাণপুর মেইন রোড (রোড-১, ২, ৪), মিজান টাওয়ার, একমি, ইবনে সিনা, শ্যামলী রোড-৪, গাবতলী, মাজার রোড, টোলারবাগ, ডেল্টা হাসপাতাল, আহমেদ নগর, পাইকপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর এলাকা, স্বাধীনতা সরণি, শহীদ মিনার রোড, নাভানা গার্ডেন, বাংলাদেশ বেতার ও বেতার কলোনি, গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট এবং পাশের এলাকা, সাতাইশ, ব্যাংক পাড়া, খরতৈল, চেরাগআলী, সিরামিক মার্কেট, দত্তপাড়া, পূর্ব কাজীপাড়া, বাইগারটেক, চানকিরটেক, চেয়ারম্যান বাড়ি, বনমালা, দেওড়া, বড় দেওড়া, খলিল মার্কেট, মুদাফা, মীর বাড়ি, ভাদাম, আউচপাড়া, মধ্য আউচপাড়া, সফিউদ্দীন একাডেমি, মোক্তার বাড়ি, মিত্তিবাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে।

২৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার : নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকা (রোড ১-৫, ৯-১১, ১৬, ১৯), রাজউক ট্রেড সেন্টার. বিআরইবি ভবন, ফারুক সরণি, খিলক্ষেত বাজার, বটতলা, মধ্যপাড়া, কুর্মিটোলা হাইস্কুল এলাকা, বালুরমাঠ, খিলক্ষেত বেপারী পাড়া, খাঁ পাড়া, পোস্ট অফিস রোড এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে।

২৯ নভেম্বর, বুধবার: উত্তরা সেক্টর-৪ (রোড ১৩, ১৬ হতে ২১ পর্যন্ত), সেক্টর-৬ (রোড ৭ হতে ১৬), ঈসা খাঁন এভিনিউ, শাহজালাল এভিনিউ, আজমপুর থেকে আবদুল্লাহপুর ঢাকা ময়মনসিংহ রোডের পূর্বপাশ, সেক্টর-৮, রাজলক্ষ্মী হতে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের পশ্চিম পাশ, সেক্টর-৯, আবদুল্লাহপুর, কসাইবাড়ী, উদয়ন স্কুল রোড, মোল্লার টেক, নবীন সংঘ রোড, প্রেমবাগান মোড় এবং পাশের এলাকায়।

৩০ নভেম্বর, বৃস্পতিবার : বনানী রোড-৬ (ব্লক-বি, সি) ও রোড-১৩ (ব্লক-ডি), গুলশান রোড ৭১, রোড ৭৫ থেকে ৮২, বনানী বাসস্ট্যান্ড, বনানী বাজার, বনানী রোড-৪, ৫, ১১, ১৪ ব্লক-এ এবং বি এবং আশপাশের এলাকা, নতুন বাজার, ফাঁসের টেক, ভাটারা মোড়, ওয়াজউদ্দীন রোড, নুরের চালা, জে-ব্লক, সমতা সড়ক, ইসলামিয়া স্কুল রোড, শাহজাদপুর কবর স্থান, বরইতলা, বৌবাজার, খিলবাড়ির টেক, বাঁশতলা, সুবাস্তু নজরভ্যালি, থাই দূতাবাস, কোরিয়া দূতাবাস, ইউএন রোড, বারিধারা-২ নম্বর পানির পাম্প, মরিয়ম টাওয়ার-১, বারিধারা রোড নম্বর-২, পার্ক রোড, সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, দূতাবাস রোড, লেক রোড এবং বারিধারা (রোড নম্বর-১, ৩, ৪, ৫), নর্দ্দা সরকার বাড়ি রোড, নর্দ্দা বাজার, কালাচাঁদপুর, পাকা মসজিদ, উত্তর বাড্ডা, প্রগতি সরণির পূর্ব পাশ, আদর্শনগর রোড, বড়টেক পাড়া, মিশ্রি টোলা, পুরাতন থানা রোড, হাসানউদ্দীন রোড, জার্মান দূতাবাস ও ফ্রান্স দূতাবাস এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।

সুত্রঃ jugantor

সেনাবাহিনীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় না রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে

আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে ক্ষমতাসীনেরা সেনাবাহিনীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের শর্ত পূরণ না হলে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যাবে না।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পৃথক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা অংশ গ্রহণ করব। তার মানে এই নয় যে জাতীয় নির্বাচনেও আমাদের একই শর্তে অংশগ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে একদলীয় নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংসদ রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আরেক আলোচনা সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যদি সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তাহলে সুস্থ মস্তিষ্কে সেই নির্বাচনের দিকে যাওয়াটা বিপজ্জনক হবে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করতে হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের নির্বাচন প্রক্রিয়া এ দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।

সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার দুটি দিক আছে। একটি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষমতা, অন্যটি বিচার করার ক্ষমতা। আমরা বিচার করার ক্ষমতার কথা বলছি না, আমরা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাটা দিতে বলছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য।’

দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আরেক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারেক রহমান দূরে বসেও তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনার আয়োজন করে।

রংপুরে বিএনপির প্রার্থী কে, পাঁচ নাম কেন্দ্রে

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ চারটি রাজনৈতিক দল রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও এখনো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেনি বিএনপি। প্রচারণায় থাকা পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে কে হবেন ধানের শীষ প্রতীকধারী তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না দলটির স্থানীয় নেতারা।

তবে মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচজনের নাম বুধবার রাতে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একক প্রার্থী ঠিক করতে মঙ্গলবার রাতে নগরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পরও একক প্রার্থী নির্ধারণ করা সম্ভব না হওয়ায় পাঁচ নেতার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তারা হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদ, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কাওসার জামান বাবলা, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম ও জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু। মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন বলেন, বৈঠকে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা সম্ভর না হওয়ায় পাঁচজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে নেতা-কর্মীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন। একই কথা বলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী শহীদুল ইসলাম মিজু। ১১ সদস্যের কমিটি : নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি, সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদকে প্রধান করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিটার্নিং ও রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গঠন করা এ কমিটিতে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা রয়েছেন। মেয়র পদে আরও দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবদুর রউফ মানিক। এ নিয়ে মেয়র পদে ১২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন।

সুত্রঃ bd-pratidin

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে: নির্বাচন কমিশনার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি জানান, কোন প্রক্রিয়ায় সেনা মোতায়েন করা হবে, এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের চিন্তা নেই বলেও জানান তিনি।

সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাহবুব তালুকদার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেনা মোতায়েন হবে আগামী নির্বাচনে। এখানে একটা কিন্তু আছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কীভাবে যুক্ত হবে, সেটি বলার সময় এখনো হয়নি। কমিশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিশন এ পর্যন্ত বিষয়টিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমরা কমিশনাররা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং আমাদের সবারই অনুভূতি হচ্ছে সেনা মোতায়েন হোক। তবে এটাকে কমিশনের সিদ্ধান্ত বলা যাবে না। সময়ই বলে দেবে যে কীভাবে সেনা মোতায়েন হবে।’ তিনি বলেন, ‘এখন হয়তো আমরা একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। কিন্তু সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তটা উঠে আসবে। কারণ সময়ই বলে দেবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। আমি কখনোই বলতে পারব না যে সেনা মোতায়েন হবে না।’

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিএনপি সেনা মোতায়েন চেয়েছিল। তাহলে কি এটা বলা যায় যে বিএনপির দাবির অগ্রগতি এক ধাপ এগিয়েছে-এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি এটা মনে করি না। কারণ, বিএনপি তো এক ধাপ অগ্রগতি চায়নি। বিএনপি সেনা মোতায়েন হবে বলেনি। তারা বলেছে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারসহ সেনা মোতায়েন করতে হবে। তবে বিএনপির দাবির বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

ইভিএমের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা ইভিএম-সংশ্লিষ্ট লোকজনকে ডেকেছিলাম। তাঁরা আমাদের সেগুলো দেখিয়েছেন। আর এর আগে যেসব ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো সব বাতিল হয়ে গেছে। তাই সেগুলোকে ইতিমধ্যে আমরা অকার্যকর ঘোষণা করেছি। এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতেই হবে, এমন কোনো চিন্তা আমাদের মধ্যে নেই। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইভিএমকে যুক্ত করতে হবে।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘ইভিএম এমন একটা অনিবার্য বিষয়, যা ভবিষ্যতে আমাদের ব্যবহার করতে হবে। আমরা এবার হয়তো পারব না। পারব কীভাবে? আমাদের প্রাথমিক প্রস্তুতিই নেই। আমাদের একটি স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হবে। প্রশ্নবিদ্ধ যন্ত্র দিয়ে সেই নির্বাচন করতে পারি না। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত।’ তিনি বলেন, ‘এবার ইভিএম ব্যবহার হবে কি না, এ বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যে সময় দরকার, যে অগ্রগতি দরকার, সেই রকম সময় আমাদের হাতে নেই।’

সুত্রঃ prothom-alo

তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন : সু চি

বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতার পর তিন সপ্তাহের মধ্যে নিরাপদে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ানের ৩১তম সম্মেলনের এক প্লেনারি অধিবেশনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। খবর ম্যানিলা বুলেটিনের।

সু চি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানো হবে। আসিয়ানের ওই রুদ্ধদ্বার অধিবেশন শেষে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হ্যারি রোক জুনিয়র জানান, বৈঠকে সু চি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ‘উদ্বেগ’ জানান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান সম্মেলনে রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি প্রসঙ্গটি ওঠার পর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মিয়ানমার আনান কমিশনের প্রস্তাব মেনে চলছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, দমন-পীড়ন অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী ও উগ্রবাদী বৌদ্ধরা। যা এখনও অব্যাহত আছে। তাদের অত্যাচারে গত আড়াই মাসে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অধিবেশনে অবশ্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদীদের দমন করে রাখাইনে শান্তি ফেরাতেই সেনা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সুত্রঃ jugantor

হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়: খালেদা জিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে তো নয়ই।’

রবিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। একই সঙ্গে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানান তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ ঘরে ঘরে কান্নার আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। সেজন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। যেই নির্বাচনে মানুষ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে যাবে। তারা যাকে পছন্দ তাকে দেবে ভোট দেবে । সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তারা কি ধরনের চুরি করেছে সবাই দেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পেশাজীবীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, শিক্ষকের ভোটে তারা একই কাজ করেছে। চুরি করে জনগণকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনে জয়লাভে কোনো আনন্দ নাই। এরপরও তারা নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। কারণ তারা জনগণকে ভয় পায়।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি জনগণের মনোভাব বোঝেন যে তারা কি চাচ্ছে। জনগণ চাচ্ছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।’

বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রবিবার বেলা পৌনে ২টায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খানের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এই জনসভায় বেলা ৪টা ১০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন খালেদা জিয়া।

এ সময় ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘মাঠে আপনারাও যাবেন, আমরাও যাবো। চ্যালেঞ্জ করছি একটি জায়গায় আপনারা সভা করেন আমরাও করছি দেখি কাদের কতো লোক আছে। জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের এতো ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝে মাঝে সত্য কথা বলেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। তবে আপনাদের শুদ্ধ করবো। যে খারাপ কাজ করেছেন তা বাদ দিয়ে আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাবো।’

বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায় জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘সবাই যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারে। সেজন্যই আমরা নির্বাচন কমিশনে আমাদের কিছু কথা ইসির সংস্কারের জন্য দিয়ে এসেছি। বলেছি যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে হয় তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশনকে বলি, সেনা মোতায়েন করতে হবে, ইভিএম হবে না।’

সিইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনারদের বলতে চাই, অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকবে এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। হাসিনার গুণ্ডাবাহিনীর হাতে অবৈধ অস্ত্র। তারা মানুষকে খুন করছে। সেনা না দিলে হাসিনার গু-াবাহিনী কেন্দ্র দখল করে অত্যাচার চালাবে। এদেশের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে জিয়াকে ভুলে নাই। তিনি আছেন মানুষের মনে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছিলো আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের। তার জন্য তারা কতোদিন হরতাল করেছে। ১৭৩ দিন। রাস্তাঘাট বন্ধ রেখেছে। হরতালের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেতলে দিয়েছে। অফিসগামী বয়ষ্ক লোকতে তারা দিগম্বর করেছে। এগুলো আ.লীগের চরিত্র। তারা তত্ত্বাবধায়কের দাবির জন্য সমুদ্রবন্দর দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছে। বাসে আগুন দেয় আ.লীগ। যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে আ.লীগ। এদের অপকীর্তির শেষ নাই।’

সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/politics/43046.online

এবার ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথি নায়ক অনন্ত

বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে ধার্মিক হয়ে উঠা এম এ জলিল অনন্ত এবার এক ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথি হচ্ছেন। আগামী ১৭ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরে ওয়াজ মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হবে।

সেই লক্ষ্যে পোস্টার ছাপানো হয়েছে। পোস্টারে প্রধান অথিতি হিসেবে এম এ জলিল অনন্তের নাম লেখা দেখা যায়। পদবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক’। এসব পোস্টার মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার বিভিন্ন দেয়াল ও গাছে সাঁটানো দেখা যাচ্ছে। এসব পোস্টার আবার ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক দুনিয়ায়।

ওইদিন বাদ আছর ওয়াজ মাহফিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এলাকার ‘যুবসমাজ’র উদ্যোগে তৃতীয় বার্ষিক বিশাল ওয়াজ মাহফিলের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমান মিজবাহ্। এতে নারীদের জন্য আছে বিশেষ সুব্যবস্থা।

এমন পোস্টার নিয়ে ফেসবুকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। চলচ্চিত্র থেকে ধর্মে মনোযোগী হয়ে দ্বীন ও ইসলামের পথে কাজ করায় অনেকে তাকে অভিভাবদন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আবার কেউ-কেউ তাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনাও করছেন। তবে কোনো কিছু গায়ে না মাখিয়ে ধর্মের কথা বলেই যাচ্ছেন অনন্ত জলিল। সম্প্রতি তার ফেসবুকে তিনি ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথ বলেছেন। কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে তিনি ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেন।

এম এ অনন্ত জলিল একাধারে চলচিত্র নায়ক, পরিচালক, প্রযোজক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। ২০১০ সালে ‘খোঁজ দ্যা সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে তার বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর ‘হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ’, ‘দ্য স্পীড’ ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ ‘নিঃস্বার্থ ভালবাসা’ ‘মোস্ট ওয়েলকাম ২’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ ছবিটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সম্প্রতি তিনি তাবলীগ জামায়েতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ইসলাম ধর্মের হুকুম-আহকামের কথা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি ধানমন্ডির এক মসজিদে তাবলীগের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেই সঙ্গে ওই বৈঠকে শরিক হতে মুসল্লিদের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সুত্রঃ samakal

খালেদা জিয়ার জনসভা কাল

নিউজ ডেস্কঃ
আগামীকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিখি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এরই মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলো কয়েক দফা প্রস্তুতি সভা করেছে। রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো থেকেও লোক আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই জনসভায় ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চায়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এটা কাজে লাগবে বলেও মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা সমাবেশকে সফল করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। গতকাল বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। জনসভাস্থল পরিদর্শনের পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে জনসভা অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে জনসভাকে ঘিরে রাজধানীতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার কয়েকজন নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, জনসভায় মানুষের ঢল নামবে। এটা দিয়ে সরকারকে বোঝানো হবে, বিএনপি সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। দেশে সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি ৮০ ভাগ আসনেই বিজয়ী হবে।

জনসভাস্থল পরিদর্শনের সময় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা করতে আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করব তারা যেন কোনো রকমের উসকানিমূলক কার্যক্রম না করে এবং আমাদের সহযোগিতা করে। আমরা সরকারের কাছ থেকে রাজনৈতিক আচরণ আশা করব। ’ এ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুল সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, রফিকুল ইসলাম রাসেল, সাইফুল ইসলাম পটু, উত্তররের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, নুরুল ইসলাম নয়ন, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মাঠের কোথায় মঞ্চ নির্মাণ হবে তার একটি সম্ভাব্য নকশা নিয়ে মঞ্চ নির্মাতার সঙ্গে আলাপ করেন।

এ সময় মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বলেছেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, বিএনপি কখনো উচ্ছৃঙ্খল দল নয়, অন্তুত আওয়ামী লীগের মতো। একটা সুশৃঙ্খল দল হলো বিএনপি। আমরা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করি না। এই কথাটুকু বলে উনি মনে হয়, উসকানিমূলক ইঙ্গিত দিলেন। উনাদের যে মনের ভিতরে কী আছে, তা প্রকাশ করে দিলেন। উনার কথাটা ইঙ্গিতময় মনে হলো। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এ জনসভায় সরকারের সহযোগিতা চাইব। ’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনসভার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়ছে। দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যৌথসভা করছেন। কীভাবে সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সফল করা যায়, তা এখন মুখ্য বিষয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া তাদের সমাবেশ করার জন্য আশ্বাস দিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।

সর্বশেষ গত বছরের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছিল বিএনপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে সমাবেশটি করে বিএনপি। তারা ওই সমাবেশটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে চেয়েছিল, পরে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় নয়াপল্টনে সমাবেশ করে।

সুত্রঃ bd-pratidin

1 2 3 26