Bangladesh

বাচ্চুর ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকা

নিউজ ডেস্কঃ লুটপাট হওয়া টাকার ভাগ সরাসরি নিয়েছেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। চেয়ারম্যান থাকার সময়ই স্ত্রী শেখ শিরিন আখতার, পুত্র শেখ সাবিদ হাই অনিক ও মেয়ে শেখ রাফা হাইকে সঙ্গে নিয়ে খুলেছিলেন ইডেন ফিশারিজ লিমিটেড নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১১ মাসেই জমা হয় ১৩ কোটি টাকার বেশি। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ও নগদে জমা হওয়া এসব টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া টাকা সরাসরি জমা হয়েছে বাচ্চু ও তাঁর ভাই শাহরিয়ার পান্নার ব্যাংক হিসাবে। এভাবে ২০১২ ও ২০১৩ সালে দুজনে মিলে ৩০ কোটি টাকার বেশি অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন ও বাচ্চুর ব্যাংক হিসাব বিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০১৪ সালেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে এসব তথ্য পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও দুদক কোনো মামলায় শেখ আবদুল হাইকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন গ্রাহকের ঋণের একটা অংশ সরাসরি জমা হয়েছে আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাংক হিসাবে। ভাগের বাকি অংশ গেছে তাঁর ভাই শাহরিয়ার পান্নার মালিকানাধীন বিএম কম্পিউটারস ও ক্রাউন প্রোপার্টিজের হিসাবে। ব্যাংকটির গুলশান শাখা থেকে এশিয়ান ফুড ট্রেডিংকে ৭৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। ঋণ পেয়েই গ্রাহক ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা সরাসরি জমা করেন আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাংক হিসাবে। একই প্রক্রিয়ায় ভাগের আরেক অংশ জমা হয় তাঁর ভাই পান্নার প্রতিষ্ঠানের হিসাবে। এভাবে গ্রাহকদের ঋণ হিসাব থেকে সরাসরি ৩০ কোটি টাকা নিয়েছেন দুই ভাই বাচ্চু ও পান্না। যোগাযোগ করলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিচার বিভাগ থেকে নির্দেশ আসার পরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি সংস্থার তদন্তেই তাঁর দুর্নীতির প্রমাণ মিলছে। তাঁর হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, অন্য প্রতিষ্ঠানের টাকাও গেছে। দেরি না করে দুদকের উচিত হবে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে যাওয়া। চেয়ারম্যানের নিজের কোম্পানি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক সাংসদ শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর ইডেন ফিশারিজ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি খোলেন তিনি। নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচালক হিসেবে রাখেন এ প্রতিষ্ঠানে। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়ে (আরজেএসসি) প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয় ৪২/১-ক জাহান প্লাজা, সেগুনবাগিচা। গতকাল মঙ্গলবার ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এ নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের খোঁজ মেলেনি। ইডেন ফিশারিজ লিমিটেড যে কাগুজে প্রতিষ্ঠান, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে। এ প্রতিষ্ঠানের সনদ ছাড়া মাছ রপ্তানি ব্যবসা করা যায় না। অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইডেন ফিশারিজ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সমিতির সদস্য না। মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি করতে হলে অবশ্যই আমাদের সদস্য হতে হবে।’ ব্যাংকে খোলা হিসাবে ইডেন ফিশারিজের ঠিকানা হলো বনানী ডিওএইচএসের ৪ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাসার পঞ্চম তলা। গতকাল বিকেলে ওই ভবনে গিয়ে জানা যায়, সেটি বাচ্চুর নিজস্ব ফ্ল্যাট। কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই সেখানে। ২০১৪ সালের ৫ জুলাই পদত্যাগের আগ পর্যন্ত ওই ভবনেই থাকতেন তিনি। ব্যাংকের অনিয়মের পর আলোচনায় এলে ওই বাসা ছেড়ে যায় তাঁর পরিবার। বর্তমানে সেখানে কেউ থাকে না। বাচ্চুর ব্যাংক হিসাবের বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইডেন ফিশারিজের ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ২ মে ১০টি চেকের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা করে ৫ কোটি টাকা তোলা হয়। পরের দিন ওঠানো হয় আরও ১ কোটি টাকা। সেদিন দুটি চেকের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা করে নগদ জমা হয় ১ কোটি টাকা। ওই বছরের ১৬ মে দুটি চেকের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা তোলা হয়। আবার দুটি চেকের মাধ্যমে জমা হয় ৫ কোটি টাকা। কোনো ব্যবসা না থাকার পরও এভাবে মাত্র ১১ মাসেই ১৩ কোটি টাকা জমা হয় এ হিসাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঋণ পাওয়ার পর ভাগের একটা অংশ দিতে হয়েছে চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাইকে। এসব অর্থের একটা অংশ জমা হয়েছে ইডেন ফিশারিজের হিসাবে। এমন আরও অনেক হিসাব রয়েছে তাঁদের। সারা বিশ্বে উত্তোলনের সুবিধার্থে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে হিসাব খুলেছিলেন তাঁরা। দুই ভাইয়ের ভাগাভাগি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব খোলার আগেই বিএস এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ মঞ্জুর করে বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা। দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা না থাকার পরও দফায় দফায় ঋণ বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা করা হয়। এ ঋণের হিসাব থেকেই শাহরিয়ার পান্নার মালিকানাধীন বিএম কম্পিউটারসে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ও ক্রাউন প্রোপার্টিজের হিসাবে জমা হয় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এঞ্জেল অ্যাগ্রোকে ৩২ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকটি। এর দেড় কোটি টাকা যায় পান্নার ক্রাউন প্রোপার্টিজের হিসাবে। টাইম ট্রেড ইমপেক্সের ১১ কোটি টাকার মধ্যে ১ কোটি টাকা যায় ক্রাউন প্রোপার্টিজের হিসাবে। এ ছাড়া ২০ লাখ টাকা যায় সিপার আহমেদের হিসাবে। এবি ট্রেড লিংককে ৬৬ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়, এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকা জমা হয় সিপার আহমেদের হিসাবে। এশিয়ান ফুড ট্রেডিংকে ৭৯ কোটি টাকা ঋণ দেয় গুলশান শাখা। ঋণের ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা সরাসরি জমা হয় আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাংক হিসাবে। ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজকে ৭৬ কোটি টাকা দেয় ব্যাংকটি। এর মধ্যে আবদুল হাই বাচ্চুর নামে হওয়া শেখ আবদুল হাই কলেজের হিসাবে যায় ১০ লাখ টাকা। ২০১২ সালের ২২ মে ডেলটা সিস্টেমস লিমিটেডের নামে ৫০ কোটি টাকার ঋণ প্রস্তাব আসে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে। প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটির নেতিবাচক মতামত সত্ত্বেও পরদিনই প্রস্তাবটি পর্ষদের সভায় অনুমোদন করা হয়। একই বছরের ১৩ জুন ঋণের অর্থ ছাড় হয়। এ হিসাব থেকেই পরের দিন ক্রাউন প্রোপার্টিজের ব্যাংক হিসাবে ৮ কোটি টাকা জমা হয়। লাইফস্টাইল ফ্যাশনকে দেওয়া ৫৬ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৮ কোটি টাকা সরাসরি জমা হয় ক্রাউন প্রোপার্টিজের হিসাবে। ধ্রুব ট্রেডার্সকে দেওয়া ১১ কোটি টাকার মধ্যে ৮০ লাখ টাকা যায় ক্রাউন প্রোপার্টিজে। আর সে সময়ে গুলশান শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনকারী সিপার আহমেদের হিসাবে গেছে ৯ কোটি টাকা। তাঁর ভাই শাকিল আহমেদের হিসাবেও গেছে ঋণে অর্থের একটা অংশ। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুল হাই যোগদান করার কিছুদিন পরই ব্যাংকটি খারাপ হতে শুরু করে। ২০১২ সাল থেকে ব্যাংকটির খারাপ অবস্থা সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০১৪ সালে ব্যাংকটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়লে তাঁকে নিরাপদে পদত্যাগের সুযোগ করে দেওয়া হয়। সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের জন্য তাঁকে বিচারের আওতায় আনার দাবি উঠলেও আমলে নেওয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রীও সংসদে ও বাইরে একাধিকবার বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে দুদক আবদুল হাই বাচ্চুসহ পর্ষদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সুত্রঃ prothom-alo

গেইলের ব্যাটিং তাণ্ডবে চ্যাম্পিয়ন রংপুর

নিউজ ডেস্কঃ বিপিএলের প্রথম দুই আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন মাশরাফি মুর্তজা। তৃতীয় আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অভিষেকও হলো তার নেতৃত্বে শিরোপা জিতে। কিন্তু গতবার ষষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করে মাশরাফির কুমিল্লা। এবার নতুন গন্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, সফল হলেন সেখানেও। ক্রিস গেইলের রেকর্ড ইনিংসে রংপুর রাইডার্স জিতলো বিপিএলের প্রথম শিরোপা, আর চতুর্থবার ট্রফি হাতে নিলেন মাশরাফি। মঙ্গলবার মিরপুরে গেইলের ব্যাটিং তাণ্ডবে রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে ঢাকা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনটা কঠিন হয়ে পড়ে ২০৭ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে। ৯ উইকেটে ১৪৯ রানে থামে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। রংপুর প্রথম বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় ৫৭ রানে জিতে। ২০৭ রানের টার্গেট, স্বাভাবিকভাবেই চাপে থাকার কথা। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে দ্বিগুণ চাপে পড়ে ঢাকা। ক্রিস গেইলের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের শিকার হওয়ার পর একের পর এক উইকেট হারিয়ে শিরোপা হারানোর শঙ্কায় পড়ে সাকিব আল হাসানের দল। ২৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় ঢাকা। ওই ধাক্কা আর কাটাতে পারেনি তারা। প্রথম দুই ওভারে দুটি উইকেট হারায় ঢাকা। ইনিংসের তৃতীয় বলে মেহেদী মারুফকে রানের খাতা না খুলতে দিয়ে এলবিডাব্লিউ করেন মাশরাফি মুর্তজা। সোহাগ গাজী পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে জো ডেনলিকে শূন্য রানে নাহিদুল ইসলামের ক্যাচ বানান। মাত্র ১ রানে দুই উইকেট হারানো ঢাকা ১৯ ও ২৯ রানে আরও দুজন ব্যাটসম্যানকে হারায়। মাশরাফি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে ফেরান এভিন লুইসকে (১৫), বল করছিলেন গাজী। রুবেল হোসেনের বলে কিয়েরন পোলার্ড (৫) ক্যাচ দেন গেইলকে। এরপর সাকিব ব্যাট হাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন জহুরুল ইসলামকে নিয়ে। কিন্তু ৪২ রানের জুটি গড়ে তিনিও ফেরেন। ১৬ বলে তিন চার ও ১ ছয়ে ২৬ রানে নাজমুল ইসলামের কাছে বোল্ড হন ঢাকা অধিনায়ক। পরের দুই ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন (১) ও শহীদ আফ্রিদি (৮) ক্রিজ ছাড়েন। সুনীল নারিনের প্রতিরোধ ভাঙেন ইসুরু উদানা। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারকে ১৪ রানে বোল্ড করেন এই লঙ্কান পেসার। একা লড়তে থাকা জহুরুল ইসলামকেও আউট করেন উদানা। ৩৮ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে ৫০ রানে বোল্ড হন জহুরুল। গাজী, উদানা ও নাজমুল দুটি করে উইকেট নেন।এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে গেইলের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ১ উইকেটে ২০৬ রান করে রংপুর। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২০১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তারা। অথচ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে পা মচকে যাওয়ায় গেইলের ফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু মাঠে নেমেছেন তিনি। রংপুরের জার্সিতে আরেকবার জ্বলে উঠলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ ব্যাটসম্যান। মঙ্গলবার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৫৭ বলে চারটি চার ও ১১ ছয়ে সেঞ্চুরি করেন গেইল, অপরাজিত ছিলেন ১৪৬ রানে। ৫টি চার ও ১৮টি ছয়ে সাজানো ছিল তার ৬৯ বলের ইনিংস। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে এলিমিনেটরে ১২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্যদিকে ম্যাককালাম অপরাজিত ছিলেন ৫১ রানে। শুরুতে কিন্তু হোঁচট খেয়েছে রংপুর। দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় তারা। কুমিল্লার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা জনসন চার্লস রানের পাল্লা ভারী করতে পারেননি। ৮ বলে মাত্র ৩ রান করে সাকিবকে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন ক্যারিবিয়ান ওপেনার। ওই একটা উইকেটই হারায় রংপুর। সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন ঢাকার বোলার খালেদ আহমেদ। ২ ওভার বল করে দিয়েছেন ৩৯ রান। এছাড়া কিয়েরন পোলার্ড ও আবু হায়দার সমান দুটি করে ওভারে রান দিয়েছেন ৩৩ ও ২৬। গেইল ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পায়নি কেউই। সাকিব ৩ ওভারে ২৬ ও মোসাদ্দেক সমান বল করে ৩২ রান দেন। সুত্রঃ banglatribune

তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক হচ্ছেন সাকিব?

নিউজ ডেস্কঃ গত মার্চে মাশরাফির অবসরের পর টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে। রবিবার বিসিবির মিটিংয়ে মুশফিককে সরিয়ে টেস্ট অধিনায়ক করা হয় সাকিব আল হাসানকে। ক্রিকেট পড়ায় গুঞ্জন, সামনে ওয়ানডে দলের দায়িত্বও উঠবে এই অলরাউন্ডারের কাঁধে। সেটা আসলে কখন তা বলা মুশকিল। এই মুহূর্তে মাশরাফি বিন মর্তুজা দলকে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাকিব হয়তো ওয়ানডে অধিনায়কত্বে ফিরবেন মাশরাফির অবসরের পর। মনে করা হচ্ছে, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন মাশরাফি। সাকিবকে হয়তো ওয়ানডে দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এরপরই। অবশ্য তার আগেও দায়িত্ব পেয়ে যেতে পারেন সাকিব। আপাতত কোনাকিছুই কলা যাচ্ছে না জোর দিয়ে। তবে ক্রিকেট পড়ায় গুঞ্জন, তিন ফরম্যাটেরই দায়িত্ব পাচ্ছেন সাকিব। ক্রিকেট পাড়ার এ গুঞ্জন নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বিসিবি প্রধানকে। জবাবে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘সাকিব এখন দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক। হ্যাঁ, ভবিষ্যতে তার তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক হবার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে এটার সুযোগ দেখছি না। কারণ মাশরাফি ওয়ানডে দলের নেতুত্বে দিচ্ছে। সে বেশ ভালো করছে।’ ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেন সাকিব। ৯টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জয় পান একটিতে। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসাবে মোটামুটি সফল তিনি। ৫০ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জেতাতে পেরেছেন ২৩টি ম্যাচ, হার ২৬টি। অন্যদিকে দেশকে ৬টি টি-টায়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে হেরেছেন সবকটিতেই। সুত্রঃ dhakatimes24

গুগলের ডুডলে আজ বেগম রোকেয়া

নিউজ ডেস্কঃ গুগলের হোমপেজে গেলে আপনি একটি ডুডল দেখতে পাবেন। তাতে দেখবেন সাদা পোশাকে চশমা পরা এক নারী বই হাতে হেঁটে যাচ্ছেন। নিশ্চয়ই চিনতে পারছেন তাঁকে? তিনি বেগম রোকেয়া। আজ তাঁর ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী। বিশেষ ডুডলে গুগল আজ তাঁকে স্মরণ করছে। ওই ডুডলে বেগম রোকেয়ার পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ডে ইংরেজিতে গুগল লেখাটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্দরমহলের বাইরে বেগম রোকেয়া ফুল ফুটিয়েছেন, সে দৃশ্যটিও গুগল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে (www.google.com) গেলে কিংবা সরাসরি (www.google.com.bd) ঠিকানায় ঢুকলেই চোখে পড়ছে বিশেষ ডুডলটি। ওই ডুডলে ক্লিক করলে বেগম রোকেয়াকে নিয়ে গুগলে নানা অনুসন্ধান ফলাফল দেখাচ্ছে। আজ ৯ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিন। ১৯৩২ সালের এই দিন মারা যান তিনি। দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে রোকেয়ার জন্ম হয়। রোকেয়া খাতুন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, মিসেস আর এস হোসেন নামেও লিখতেন এবং পরিচিত ছিলেন তিনি। ঊনবিংশ শতকে নারীরা যখন অবরোধবাসিনী, একই সময় নারীর পরাধীনতার বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলেছেন। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্বপ্ন ছিল সমাজে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা আর অধিকার নিয়ে বাঁচবে। সেই স্বপ্নের কথাই তিনি লিখে গেছেন তাঁর গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধগুলোতে। নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করে গেছেন আমৃত্যু। নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, তাঁদের ক্ষমতায়ন, ভোটাধিকারের জন্য লড়াইটা এই বাংলায় রোকেয়াই শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্ম বা মৃত্যু দিবসে ডুডল পরিবর্তন করে গুগল। যার মাধ্যমে ওই দিন বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে বিস্তারিত জানানো হয়। ডুডলে প্রদর্শিত বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে এতে ক্লিক করতে হয়। তখন গুগল অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকা কিছু ওয়েবসাইটের লিংক প্রদর্শন করে। এর আগে সর্বশেষ গত ১৩ নভেম্বর গুগলের ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ’ ডুডল দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, প্রখ্যাত স্থপতি এফ আর খানের জন্মদিনসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ডুডল প্রকাশ করেছে গুগল। সুত্রঃ prothom-alo

মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করবে হেফাজত

নিউজ ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ১৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় দূতাবাস ঘেরাও ও আগামী রোববার বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে হেফাজত। আজ শুক্রবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসাইন কাসেমী এ ঘোষণা দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণার প্রতিবাদে একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর শাখা। বিক্ষোভে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদ দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প চান না বিশ্বের বুকে শান্তি থাকুক। তাঁর কাজই হলো গোটা দুনিয়াব্যাপী অশান্তির তাঁবেদারি চালু রাখা। তিনি বলেন, বিশ্বে যেসব সংস্থা রয়েছে, তারা ট্রাম্পের হাতকে যদি স্তব্ধ করতে না পারে, গোটা দুনিয়ার মুসলিম উম্মাহ ট্রাম্পকে উচিত শিক্ষা দেবে। বিক্ষোভে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাল মাদানি বলেন, ‘জেরুজালেমকে যারা ইসরায়েলের রাজধানী করতে চায়, এটা আমরা করতে দেব না। মুসলমানদের এক বিন্দু রক্ত থাকতে জেরুজালেম ইহুদিদের রাজধানী করতে দেব না।’ ট্রাম্পের এ ঘোষণার প্রতিবাদে একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ঢাকা মহানগরী শাখা। জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটক থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলগুলো বের হয়ে পুরানা পল্টন ও দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে উত্তর ফটকে এসে শেষ হয়। এ সময় পুরানা পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা মোড়ে প্রায় ৪০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য এই দুই মোড়ে মোতায়েন ছিল। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের ‘কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘দুনিয়ার মুসলিম এক হও, লড়াই করো’, ‘বিশ্ব মুসলিম ঐক্য গড়, ফিলিস্তিনি স্বাধীন করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। গত বুধবার (৬ ডিসেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে এই বিক্ষোভগুলো করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মুসলিম বিশ্বের কারও পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ তার অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সুত্রঃ prothom-alo

সৌদিতে জিয়া পরিবারের ১২শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ

নিউজ ডেস্কঃ সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের এক হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, ‘তিন মাস পর পর সৌদি আরবের বিনিয়োগ থেকে মুনাফার টাকা পায় জিয়া পরিবার। এই দস্যুরাই দেশে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। আমি অবিলম্বে খালেদা জিয়ার গ্রেফতার দাবি করছি।’ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিদেশে পাচার করা অর্থ-সম্পদ দেশে ফেরত আনার দাবিতে ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি। মানববন্ধনে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সৌদিআরবের রাজা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ফলে তিনি তার ১১ ভাইকে দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতারও করেছেন। তাদের মধ্যে দুই জন সুনির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন, সৌদিআরবের বিভিন্ন ব্যবসায় তারেক রহমান, খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমানের ভাই সাঈদ ইস্কান্দার এবং আরাফাত রহমান কোকোর বিনিয়োগ আছে। এই টাকার পরিমাণ এক হাজার ২শ’ কোটি ডলার। এর সঙ্গে ৮০ দিয়ে গুণ করলে যে টাকা হয় সেই পরিমাণ টাকা তাদের সেখানে রয়েছে। সেখান থেকে তিন মাস অন্তর এই টাকার মুনাফা পায় জিয়া পরিবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘সৌদিতে জিয়া পরিবারের বিনিয়োগের খবর কিন্তু প্রথমে আলজাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। আমি নিজে ওই প্রতিবেদন দেখেছি। এছাড়া লন্ডনভিত্তিক গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত জিয়া পরিবারের বিনিয়োগের প্রতিবেদনও পড়েছি। পরে আমাদের দেশের কয়েকটি পত্রিকায়ও এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। জিয়া পরিবারের কেউ কিন্তু এখনও পর্যন্ত বলেনি খবরটি মিথ্যা।’ সাবেক এই বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের রক্ত পানি করা এক হাজার ২শ’ কোটি ডলার তারা সৌদিতে বিনিয়োগ করেছে। এর আগেও তারেক জিয়া বিরুদ্ধে ৮০ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ ওঠে। জনগণের রক্ত পানি করা এই টাকা এভাবে বিদেশে পাচার সহ্য করা যায় না। তাই আমি সরকারের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অনুরোধ দ্রুত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দস্যুরা আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতায় আসতে চায়। এদেশের জনগণ কখনই তাদের ক্ষমতায় আসতে দেবে না। দেশ থেকে তাদের বিতাড়িত করতে হবে।’ মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ প্রমুখ। সুত্রঃ banglatribune

প্লাস্টিকের বোতলে হচ্ছে তুলা

নিউজ ডেস্কঃ পানি খাওয়ার পর যে বোতলটি বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, সেই প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি হচ্ছে তুলা। এই তুলা দিয়ে সুতা বানিয়ে রং-বেরঙের পলেস্টার কাপড় তৈরি হচ্ছে। এই তুলা আবার বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে রি-সাইকেল পদ্ধতিতে তুলা তৈরির এই অভিনব কাজটি এখন দেশেই হচ্ছে। ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের পানিয়াশাইলে চীনা প্রযুক্তির একটি কারখানা তৈরি হয়েছে। মুমানু পলিয়েস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে ওই কারখানাটিতে গত কয়েক মাস ধরে প্লাস্টিক পেট বোতল দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ টন তুলা উত্পাদন করা হচ্ছে। চীন, ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে এ ধরনের কারখানা থাকলেও বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে তুলা উত্পাদনের এটিই প্রথম কারখানা। যেভাবে পাওয়া যায় তুলা : পানি খাওয়ার পর ফেলে দেওয়া স্বচ্ছ বোতল সংগ্রহ করা হয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে। এই পেট বোতল ছোট ছোট করে কেটে ফ্লেক্স তৈরি করা হয়। এরপর গরম পানি দিয়ে সেই ফ্লেক্স ধোয়া হয়। উচ্চ তাপ ও চাপে সেই ফ্লেক্স আট ঘণ্টা বায়ু নিরোধক ড্রামে রাখা হয়। ভ্যাকুয়াম ড্রামে তাপ দেওয়ার পর তৈরি হয় পেস্ট। সেই পেস্ট স্পিনারেট দিয়ে স্নাইবার করা হয়। এরপর তা সূক্ষ্ম সুতার আকারে বেরিয়ে আসে। ওই সুতা আবার বিভিন্ন আকারের কাটিং করে মেশিনে ঢোকানোর পর পলেস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পি.এস.এফ) হিসেবে সাদা তুলা বেরিয়ে আসে। উত্পাদিত তুলা বাজারে বিক্রি করা কার্পাস তুলার মতই মোলায়েম ও মসৃণ। প্লাস্টিক বোতল থেকে তুলা তৈরির এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রপ্তানির উদ্দেশ্যে মেশিনেই তা প্যাকেজিং করা হয়। এ থেকে সুতার মতো যে বর্জ্য বের হয় সেটিও আবার রি-সাইকেল পদ্ধতিতে তুলা তৈরিতে ব্যবহূত হয়। জানা গেছে, এ ধরনের তুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চীনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। আগে চীন কাঁচামাল হিসেবে সরাসরি প্লাস্টিক পেট বোতল আমদানি করে নিজেরাই এ ধরনের তুলা উত্পাদন করত। সম্প্রতি দেশটি প্লাস্টিক বোতল আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। ফলে এখন ফিনিশড পণ্য হিসেবে তুলা বা পি.এস.এফ. আমদানি করছে দেশটি। এ কারণে রপ্তানি পণ্য হিসেবে এ ধরণেন পি.এস.এফ তুলার কদর বাড়ছে। মুমানু পলিয়েস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি আবুল কালাম মোহাম্মদ মূসা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ ধরনের কারখানা গড়ার পেছনে দুটো উদ্দেশ্য কাজ করেছে। এক : তুলা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে প্লাস্টিকের ফেলে দেওয়া বোতল ব্যবহার করায় পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ তুলা বানাতে যে ধরনের বোতল ব্যবহৃত হয় তা মাটির সঙ্গে মেশে না। ফলে পরিবেশের ব্যাপক দূষণ করে এটি। সেজন্য পরিবেশ সুরক্ষায় ফেলে দেওয়া এই বোতল কারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে কাঁচামাল হিসেবে। দুই : এই বর্জ্য থেকে উত্পাদিত তুলা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারখানার কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম স্থাপিত এ ধরনের কারখানা থেকে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন তুলা উত্পাদন হচ্ছে, যা শিগগিরই ৮০ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। প্রতি কেজি পি.এস.এফের রপ্তানি মূল্য এক ডলার হলেও দৈনিক প্রায় ৮০ হাজার ডলারের তুলা উত্পাদনে সক্ষম ওই কারখানাটি। তবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটিতে সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কারখানার কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রযুক্তির কারখানাটি স্থাপনের পর কাঁচামাল সংগ্রহসহ দেশীয় বাজারে উত্পাদিত তুলার যথাযথ মূল্য না থাকায় এটি অলাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সরকার পেট বোতল ফ্লেক্স রপ্তানিতে ১০ শতাংশ হারে ভর্তুকি দিচ্ছে। কারখানা সংশ্লিষ্টরা পেট বোতল ব্যবহার করে তুলা উত্পাদন করার ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন করছেন। ফলে এই খাতে তারা ২০ শতাংশ রপ্তানি ভর্তুকির সুযোগ চান সরকারের কাছে। আবুল কালাম মোহাম্মদ মূসা বলেন, আমাদের উত্পাদিত তুলার চাহিদা বিদেশে থাকলেও দেশে এখনো সে ধরনের চাহিদা তৈরি হয়নি। ফলে যথাযথ মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সরকার রপ্তানি ভর্তুকি দিলে সম্ভাবনাময় এই শিল্প খাতের বিকাশ ঘটবে। এতে ফেলে দেওয়া বর্জ্য ব্যবহার করে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পে। সুত্রঃ bd-pratidin

বিপিএলের শেষ চারের সময়সূচি

নিউজ ডেস্কঃ মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা খুলনা টাইটান্স ও রংপুর রাইডার্স। আর সন্ধ্যা ৭টায় প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস। বিপিএলের শেষ চারের সময়সূচি: ৮ ডিসেম্বর, শুক্রবার, এলিমিনেটর খুলনা টাইটান্স-রংপুর রাইডার্স, দুপুর ২টা, মিরপুর ৮ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ১ম কোয়ালিফায়ার, কুমিল্লা-ঢাকা ডায়নামাইটস সন্ধ্যা ৭টা, মিরপুর ১০ ডিসেম্বর, রবিবার ২য় কোয়ালিফায়ার ... বনাম, মিরপুর ১২ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার ফাইনাল... বনাম ...সন্ধ্যা ৬টা, মিরপুর

ডিভোর্স লেটারের কথা স্বীকার করে যা বললেন অপু

নিউজ ডেস্কঃ অবশেষে ডিভোর্স লেটার (চিঠি) হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।  বুধবার (০৬ ডিসেম্বর) নায়িকা নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। অপু বললেন, ‘গতকাল তালাকের কাগজ হাতে পেয়েছি। এখন আমার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।’  তবে সংবাদ সম্মেলন কবে করতে যাচ্ছেন এ বিষয়ে স্পষ্ট করেননি ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় এই নায়িকা। দীর্ঘ ৮ বছর গোপনে সংসার করার পর অপুর কোলজুড়ে আসে পুত্র আব্রাহাম খান জয়। গত এপ্রিলে অপু বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমে তাদের বিয়ের খবর জানান। এরপর থেকেই শাকিব-অপুর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত ২২ নভেম্বর চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে তালাকের কাগজ পাঠান তার স্বামী চিত্রনায়ক শাকিব খান। কিন্তু এই সংবাদ চাউর হয় ডিসেম্বরে এসে। তবে ডিভোর্স লেটার হাতে না পাওয়ার কথা জানান অপু। তারকা দম্পতি শাকিব-অপুর বিয়ের বয়স ৯ বছর। তাদের ঘরে রয়েছে এক বছরের ছেলে আব্রাম খান জয়। আর এই সন্তানকে অবহেলা ও মতের মিল না হওয়ার কারণ দেখিয়েই অপুকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন কিং খান। তিন মাসের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা না হলে নিয়ম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাকিব-অপুর ডিভোর্স হয়ে যাবে। সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/entertainment/45929.online

আপনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, প্রধানমন্ত্রীকে সোফিয়া

হ্যালো সোফিয়া, কেমন আছ? —ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি ভালো আছি। আমি গর্বিত। আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া দারুণ ব্যাপার। এই কথোপকথন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচিত রোবট সোফিয়ার। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক মেগা ইভেন্ট ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর এবারের আয়োজনের বড় আকর্ষণ এই যন্ত্রমানবী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করেন। বক্তৃতা পর্ব শেষে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রোবোটিক্সের সমন্বয়ে গড়া রোবট সোফিয়ার সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে ট্যাব চেপে তিনি মেলার উদ্বোধন করেন। পরের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব থেকে আসা সোফিয়ার কাছে জানতে চান, ‘তুমি আমাকে কীভাবে চিনলে?’ জবাবে বিশ্বের প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া এই রোবট বলে, ‘আমি জানি, আপনি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। আপনি মাদার অব হিউম্যানিটি। আপনার নাতনির নামও সোফিয়া।’ প্রধানমন্ত্রী তখন উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জানেন, জয়ের (প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তাঁর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়) মেয়ের নাম সোফিয়া।’ হলুদ-সাদা রঙের জামদানির পোশাক পরা সোফিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইংরেজিতে কথোপকথন চলে। যার আদলে সোফিয়াকে বানানো হয়েছে সেই বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নও বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হয়ে বাংলাদেশে এসে প্রায় এক সপ্তাহ ছিলেন। বাসসের খবরে বলা হয়েছে, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এবং বাংলাদেশ সফটওয়্যার ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি ও বিজয় সফটওয়্যারের প্রবক্তা মোস্তাফা জব্বার। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারের পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কম্পিউটার খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কয়েকটি আইটি সংগঠনের সহযোগিতায় আইসিটি বিভাগ ও বেসিস ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর আয়োজন করেছে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘রেডি ফর টুমরো’। ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড দেখতে কোনো টিকিট লাগবে না, তবে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। মেলা প্রাঙ্গণেও নিবন্ধন করার সুযোগ থাকছে।   সুত্রঃ prothom-alo
1 2 3 28