Bangladesh

সিইসির পদত্যাগ দাবি কাদের সিদ্দিকীর

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করে তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে আমাদের বক্তব্য অব্যাহত রাখতে পারি নাই। আমরা আলোচনা বয়কট করে চলে এসেছি। আমরা আলোচনা বয়কট করেছি এই জন্য যে, গতকাল সিইসি টোটাল কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে নয় তিনি এককভাবে বলেছেন যে, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেছেন। যদি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করে থাকেন, তাহলে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কেউ না কেউ হত্যা করেছে। সেই হত্যা করা, বাতিল করা, স্থগিত করা বা নির্বাসনে দেয়া গণতন্ত্রকে পুন:প্রতিষ্ঠা করেছেন জিয়াউর রহমান। তার (সিইসি) এই বক্তব্যের সাথে আমরা একমত না। সিইসি একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। তিনি এ কথা বলতে পারেন না যে, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন আর শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। তাই আমি মনে করি সিইসির এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি একটা অত্যন্ত কঠিন বেহিসেবি কথা বলেছেন।’

সোমবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সাথে নির্ধারিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

তিনি আরও বলেন, ‘সবার সাথে সমআচরণ করা উচিত। এটা আমাদের দেশে হয় না। আমাদের দেশে তেলা মাথায় তেল দেয়ার রেওয়াজ ভিশনভাবে দেখা যায়। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত ৪০টি দলকে সংলাপে আহ্বান করেছে তাদের সঙ্গে নির্বাচন সম্পর্কে মতবিনিময় করার জন্য। এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যে লড়াই সেটি গণতন্ত্রের লড়াই, সে লড়াই মানুষের অধিকারের লড়াই, সেই জন্য আমাদেরকে ডাকা। এই আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করলেও সেটাকে আমরা স্বীকার করতে পারছি না।’

বঙ্গবীর বলেন, ‘যখন বিএনপি এখানে আলোচনা করতে এসেছিল। সেখানে বেশ সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সেই জন্য আমরা যথেষ্ঠ আশাবাদী হয়েছিলাম। আমাদের আলোচনা ভালো হয়েছে। কিন্তু এখন আমাদেরকে বয়কট করতে হয়েছে। পদত্যাগ চাইতে হয়েছে।’

৩৪তম দল হিসেবে সংলাপে অংশ নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর সমালোচনার মুখে পড়লো কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন। বয়কটের আগে নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ইভিএম চালুসহ ১৮ দফা প্রস্তাব দেয় দলটি। সংলাপে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

 

সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/politics/40366.online

ওয়ানডে ইতিহাসে রেকর্ড হার বাংলাদেশের

সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে লজ্জার রেকর্ড গড়ে হেরেছে বাংলাদেশ। রবিবার কিম্বার্লিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে দশ উইকেটে হেরে গেছে টাইগাররা। সাউথ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭৯ রানের। সেই রান তারা কোনও উইকেট না হারিয়ে টপকে গেছে। এর আগে সর্বোচ্চ ২৫৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ১০ উইকেটের জয়ের রেকর্ড আছে। গত বছর বার্মিংহামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেয়ে এই রেকর্ড গড়েছিল ইংল্যান্ড।

ওয়ানডেতে সাউথ আফ্রিকার এটি বড় জয়। যদিও প্রোটিয়াদের এর আগেও ১০ উইকেটের জয় আছে। কিন্তু এত রান তাড়া করে ১০ উইকেটের জয় সাউথ আফ্রিকার এই প্রথম। এর আগে তাদের দশ উইকেটের জয়ের ক্ষেত্রে সববেশি বড় টার্গেট ছিল ১৮৯ রানের।

তাছাড়া আজ কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেটের ইতিহাসে আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন। সেটি হচ্ছে তারা ২৮২ রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন। ওয়ানডেতে যেকোনও উইকেটে সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ। এর আগে ২৫৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনি।

আজকের ম্যাচে কুইন্টন ডি কক ১৬৮ রান করে ও হাশিম আমলা ১১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে কুইন্টন ডি ককের এটি ১৩তম সেঞ্চুরি। আর ওয়ানডেতে হাশিম আমলার এটি ২৬তম সেঞ্চুরি।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ২৫১ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে আজ দারুণ একটি ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পঞ্চম সেঞ্চুরি করেন তিনি। ইনিংস শেষে ১১০ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। এই ইনিংস খেলার পথে ১১টি চার ও দুইটি ছক্কা মারেন তিনি। অন্যান্যদের মধ্যে ইমরুল কায়েস ৩১, সাকিব আল হাসান ২৯ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৬ রান করেন। সাউথ আফ্রিকার পক্ষে কাগিসো রাবাদা ৪টি, ইমরান তাহির ১টি ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ২টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১০ উইকেটে জয়ী সাউথ আফ্রিকা

বাংলাদেশ ইনিংস: ২৭৮/৭ (৫০ ওভার)

(ইমরুল কায়েস ৩১, লিটন দাস ২১, সাকিব আল হাসান ২৯, মুশফিকুর রহিম ১১০*, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৬, সাব্বির রহমান ১৯, নাসির হোসেন ১১, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১৬; কাগিসো রাবাদা ৪/৪৩, ডেন প্যাটারসন ০/৬৯, ইমরান তাহির ১/৪৫, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ২/৪৮, আন্দিল ফেহলাকওয়েও ০/৬০, জেপি ডুমিনি ০/৮)।

সাউথ আফ্রিকা ইনিংস: ২৮২/০ (৪২.৫ ওভার)

(কুইন্টন ডি কক ১৬৮*, হাশিম আমলা ১১০*; রুবেল হোসেন ০/৩৭, মাশরাফি বিন মর্তুজা ০/৫০, তাসকিন আহমেদ ০/৬১, সাকিব আল হাসান ০/৪৮, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ০/৪৬, নাসির হোসেন ০/২৯, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/১১)।

 

সুত্রঃ dhakatimes24

বুধবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া


আগামী বুধবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা পাঁচটা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে তার। প্রায় আড়াই মাস পর দেশে ফিরছেন তিনি।

শনিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নেতা কর্মীরা খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান শায়রুল কবির। তিনি বলেন, দলের নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়াকে ‘এক নজর দেখতে’ বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে, শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ সপ্তাহেই খালেদার দেশে ফেরার কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বলছি, উনি (খালেদা জিয়া) খুব শিগগিরই দেশে আসছেন। আমি আশা করি, এই সপ্তাহেই উনি দেশ ফিরছেন।’

গত ১৫ জুলাই চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান বিএনপি নেত্রী। লন্ডন পৌঁছার পর থেকে বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার নামে কুমিল্লায় দুই মামলায় ও ঢাকায় তিন মামলায় বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এর প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সুত্রঃ dhakatimes24

কি আছে প্রধান বিচারপতির লিখিত বিবৃতিতে

নিউজ ডেস্কঃ
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হয়েছেন। শুক্রবার  রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটে চড়েন তিনি। কিন্তু যাওয়ার পথে নতুন নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে গেছেন। দেশ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।

তার ওই বিবৃতির বক্তব্য হুবুহু প্রকাশ করা হলঃ-

আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষভাবে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়ের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। তা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে। কারণ, গতকাল প্রধান বিচারপতি কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীনতম বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনে পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধুমাত্র রুটিন মাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটাই হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

যা বলে গেলেন প্রধান বিচারপতি

আড়াই মাস ধরে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার পর ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পথে নতুন নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে গেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

শুক্রবার রাতে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, তবে রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ‘সমালোচনায়’ বিব্রত। চলতি মাসের শুরুতে বিচারপতি সিনহার ছুটিতে যাওয়ার খবর আসার পর থেকেই বিএনপি অভিযোগ করে আসছিল, ষোড়শ সংশধনী বাতিলের রায় নিয়ে চাপ দিয়ে তাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করেছে সরকার।

আর ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন; এর সঙ্গে রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই, চাপেরও কোনো বিষয় নেই।

আইনমন্ত্রী বৃহস্পতিবারও বলেছেন, বিচারপতি সিনহা যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবেই তার ছুটির প্রজ্ঞাপন হয়েছে ।

তবে ঢাকার হেয়ার রোডের বাসভবন থেকে বিমানবন্দরের পথে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের হাতে দেওয়া ওই লিখিত বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, রায় নিয়ে সরকারের একটি মহলের ‘ভুল ব্যাখ্যার’ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ওপর ‘অভিমান করেছেন’ বলেই তার বিশ্বাস।

তবে তার অবর্তমানে প্রধান বিচারপতির কার্যভার পাওয়া বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা শিগগিরই কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবেন বলে যে তথ্য আইনমন্ত্রী দুদিন আগে দিয়েছেন, তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন বিচারপতি সিনহা।

তিনি বলেছেন, তেমন কিছু করা হলে তা হবে উচ্চ আদালতে সরকারের ‘হস্তক্ষেপ’; আর তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। সুপ্রিম কোর্টের প্যাডে লেখা টাইপ করা ওই বিবৃতির নিচে সবুজ কালিতে বাংলায় বিচারপতি সিনহার স্বাক্ষরও রয়েছে।

তার ওই বিবৃতির বক্তব্য হুবুহু প্রকাশ করা হল-

শুক্রবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ছুটিতে প্রধান বিচারপতির বিদেশে অবস্থানের সময়ে, অর্থাৎ ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, ‘অথবা তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত’ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার সম্পাদন করবেন।

 

সুত্রঃ .bdnews24

আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেবে না: কাদের

বিএনপির মতো বড় দলকে বাইরে রেখে আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার কোনও সম্পর্ক নেই।এই পরোয়ানা আদালত জারি করেছে, সরকার নয়।’

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের ক‌ঠিন চিবর দান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের শক্তিশালী পক্ষ হয়ে আসার আহব্বান জানান সড়কমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন বহু। শেখ হা‌সিনা একটি পদ্মা সেতু ক‌রে যা ক‌রেছেন, বিএন‌পি তার গোটা শাসনাম‌লে তা করে দেখাতে পারেনি। আম‌রা দুর্বল প্র‌তিপক্ষ চাই না। শ‌ক্তিশালী প্রতিপক্ষ চাই। শ‌ক্তিশালী প্রতিপক্ষ‌কে পরা‌জিত কর‌বে আওয়ামী লীগ।’

আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বাইরে রাখতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে-বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে কাদের বলেন, ‘বিএনপির মতো বড় দলকে মাঠের বাইরে রেখে ফাঁকা মাঠে গোল দেবে না আওয়ামী লীগ। গ্রেফতা‌রি প‌রোয়ানা জা‌রি ক‌রেছেন আদালত, সরকার নয়।’

তিনি ব‌লেন,‘রো‌হিঙ্গা জন‌স্রোত সাম্প্রদা‌য়িক সংস্কৃ‌তি‌তে আঘাত হানতে পা‌রেনি।শেখ হা‌সিনা সরকারের যথাযথ অবস্থা‌নের কার‌ণে কোথাও কোনও অঘটন ঘ‌টেনি। ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গা মুসলমানদের কান্না যখন বাংলাদেশের নদী-সাগরে মিলছে, তখন অনেকেই সংঘাতের আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু শঙ্কা দূর হয়েছে সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণেই।’

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আপনারা মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকুন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন। ভ‌বিষ্যতে কোনও অবস্থা‌তে যাতে রামু বৌদ্ধ ম‌ন্দি‌রের সেই বিপর্যয়কর প‌রি‌স্থি‌তি না ঘটে এ ব্যাপারে সরকার সজাগ ও সচেষ্ট।’সরকা‌রের বা‌কি মেয়া‌দে পার্বত্য শা‌ন্তিচু‌ক্তির শতকরা ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হ‌বে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

পার্বত্য বৌদ্ধসংঘের সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তাফা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মি কে এস মং, আওয়ামী লীগের উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

 

সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/politics/40166.online

তিন টাকার ডিম নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

কেউ বালতি, কেউ ডিমের খাঁচি কেউ বা কাগজের কার্টন নিয়ে এসেছেন। এই দৃশ্য রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণের। কারণ, সেখানে তিন টাকায় ডিম বিক্রি হচ্ছে। আর এই দামে ডিম কিনতে সকাল থেকে রাজধানীর নানা বয়সী, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে ডিম জুটেছে মাত্র গুটিকয়েকের কপালে। ধাক্কাধাক্কিতে ভেঙে পড়েছে ডিম বিতরণের অস্থায়ী মঞ্চ। ডিম কিনতে না পেরে ক্ষুব্ধ লোকজন বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে।

১৩ অক্টোবর শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই আয়োজন করে।

সকাল দশটা থেকে ডিম দেওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল নয়টায় বিক্রি শুরু হয়। সর্বোচ্চ ৯০টি করে ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও মানুষের চাপ দেখে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্যাকেট করা হয় ২০টি করে। হুড়োহুড়ি আর ধাক্কাধাক্কিতে ডিম দেওয়া মিনিট দু-একের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের হুড়োহুড়িতে আয়োজকেরা প্যান্ডেল থেকে ডিম দেওয়া বন্ধ করে দেন। ধাক্কাধাক্কিতে একপর্যায়ে ডিম বিতরণের জন্য তৈরি অস্থায়ী মঞ্চ ভেঙে পড়ে। বেশ কয়েক খাঁচি ডিম ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে ডিমের ওপরে গিয়ে পড়েন। রোদে দাঁড়িয়ে আর ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

হুড়োহুড়ির মাঝে দু-একজনকে ডিম পেতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশই ডিম পাননি। এক লোকের হাতে তিনটা ডিম দেখা গেল। জিজ্ঞেস করতেই সে হেসে বলল, ‘ভাই আমি পাঁচটায় এসেছি, ডিম পাইনি কৌশলে চুরি করে নিছি।’

ডিম না পেয়ে সকাল নয়টা থেকেই মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। অনেকে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পরপরই শোরগোলের আওয়াজ করছিল মানুষ।

স্বেচ্ছাসেবীরা মানুষকে বোঝাতে হিমশিম খান। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে তেজগাঁও থানার পুলিশ যোগ দেয়। তারা কয়েকবার লাটিচার্জ করে। তারপরও মানুষ ডিম নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

ডিম না পেয়ে মানুষ ‘আর কোনো দাবি নাই, ডিম চাই বিচার চাই’, ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘ডিম চোর, ডিম চোর’, ‘ডিম চাই ডিম চাই’—স্লোগানে বিক্ষোভ করতে থাকে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ৩৩ বছর বয়সী লিটন হালদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কষ্ট লাগছে ডিম পেলাম না। যে কষ্ট করছি, এর চেয়ে ডিম দোকান থেকে কিনলেও শান্তি পেতাম। মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্যই এ আয়োজন। যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তার কিছুই নেই। লাঠিপেটা করে কিছু হবে?”

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সারোয়ার মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত হাজার হাজার লোককে কেন এত কষ্ট দিল। আমরা এর বিচার চাই, কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। কেন মিডিয়াতে ঢোল পিটিয়ে ডিমের কথা বলা হলো? কেউ ডিম পায় নাই এখানে। এমন হয়রানি করার কী দরকার?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্‌দীন হলের শিক্ষার্থী মুরসালিন আহমেদ সকালে খামারবাড়ি আসেন ডিম নিতে। তাঁরা একসঙ্গে ৪৫ জন এসেছেন। মুরসালিন প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাচেলর লাইফে ডিমই তো সব।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরে মাইকে বলা হয়, ডিম দিবস উপলক্ষে ভোক্তাসাধারণের যে উদ্দীপনা তা কল্পনার বাইরে। শিগগিরই ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্পটে একই দামে ডিম বিক্রি হবে।

ডিম দিবস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে ডিম বিক্রির আয়োজক বিপিআইসিসির মিডিয়া উপদেষ্টা মো. সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত মানুষ এই আয়োজনে আসবে আমরা ভাবতে পারিনি।’

বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি যেমন ছিল, তার থেকে অনেক বেশি ভিড় হয়েছে। পুলিশ এবং আমাদের ভলান্টিয়ারি সার্ভিস ঠিক ছিল। যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ হয়েছে, তার জন্য আমরা দুঃখিত। আমরা আশা করি, বাকি সারা দিনে আমরা সামাল দিব। ১ লাখ ডিম আমাদের হাতে ছিল। আমরা জানি না কত ডিম বিতরণ হয়েছে। আমরা এটা ব্যর্থতা মনে করি না, এটা আমাদের সফলতা। পরিস্থিতির কারণে আমরা ডিম বিক্রি বন্ধ করেছি। এটাতে প্রমাণ হয় জনগণ সাড়া দিয়েছে।

 

সুত্রঃ prothom-alo

‘ব্লু হোয়েল’র নির্মাতা নিজেই একজন মানসিক রোগী!

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট দুনিয়ার এক ভয়ংকর নাম ‘ব্লু হোয়েল’। এই গেমের নেশার ফাঁদে পড়ে তরুণ-তরুণীরা আত্মহত্যা করতেও পিছপা হচ্ছে না।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও এক মেধাবী তরুণীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।। কী আছে এই গেমের মধ্যে? ফিলিপ বুদেকিন কেনই বা তৈরি করলেন এই গেম, তাই এখন আলোচনার অন্যতম ইস্যু। তদন্ত কর্মকর্তারা  জানিয়েছে ফিলিপ নিজেও একজন মানসিক রোগী।

কে এই বুদেকিন?
বুদেকিন (‘ব্লু হোয়েল’ ভক্তরা যাকে ফিলিপ ফক্স বলে জানে) রাশিয়ার নাগরিক। তার পরিবার সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। বুদেকিন ২০১৩ সালে ব্লু হোয়েল এর যাত্রা শুরু করেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করার সময় বুদেকিন রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করত।  তবে ব্লু হোয়েলের বিষয়টি প্রকাশ হলে ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।

ভয়ঙ্কর এই গেম তরুণ খেলোয়াড়দের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে যা তাদেরকে পঞ্চাশটি বিপজ্জনক এবং ধ্বংসাত্মক কর্মের মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত করে এবং চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বুদেকিনের আদেশে নিজেদের প্রাণ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ব্রিটেনেও ছড়িয়ে পড়ছে এই গেম। কিছু কিছু স্কুল অভিভাবকদেরকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে তারা বাচ্চাদেরকে এ ধরণের অসুস্থ খেলায় অংশ নিতে না দেয়।

‘ব্লু হোয়েল’ ঠাণ্ডা মাথায় ধীরে ধীরে তরুণ খেলোয়াড়দের মনে আত্মহত্যার বীজ বপন করে। এই খেলায় একটি ট্রেনের গায়ে লেখা থাকে, “এই জগৎ আমাদের জন্য নয়”। ছাদের উপর কিশোর-কিশোরীর ছবি দেখা যায়, যার ক্যাপশন, “আমরা মৃত প্রজন্মের সন্তান”। এসবের পাশাপাশি এই গেম প্রতিদিন ভয়ের সিনেমা দেখতে বলে,  গভীর রাতে চ্যালেঞ্জিং কিছু করে দেখাতে বলে।

রাশিয়ার ইরখুটস্কের দুই বান্ধবী ইউলিয়া কনস্ট্যান্টিনোভা (১৫) এবং ভেরনিকা ভোলকোভা (১৬) একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আত্মহত্যা করেছেন। ইউলিয়া তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেইজে ‘সমাপ্ত’ লিখে একটি নীল তিমি একটি ছবি পোস্ট করেছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের আকৃষ্ট করতে তিমিকে এই ক্ষতিকারক গেমের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ভেরনিকা লিখেছেন, ‘অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি… সমাপ্ত’। সে নিয়মিতভাবে দুঃখদায়ক আবেগের সাথে আপডেট পোস্ট করত। যেমন, ‘আপনি কি অনুভব করেন যে ধীরে ধীরে আপনি অথর্ব হয়ে পড়েছেন?’ কিংবা ‘আমি যথারীতি একটি ভূত’। একটি সাক্ষাৎকারে, বুদেকিন বলেন যে সে অল্পবয়সী কিশোরীদের একটি মোহগ্রস্ত করে রাখে যাতে তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি করা যায়।

তার ভাষায়, “হ্যাঁ। আমি সত্যিই সেটা করেছি। চিন্তা করবেন না, সবকিছু বুঝতে পারবেন একসময়।,সবাই বুঝবে। তারা মরে শান্তি পাচ্ছে। আমি তাদের তাই দিয়েছি যা তাদের জীবনে ছিল না। উদ্দীপনা, বিচারবুদ্ধি, সম্পৃক্ততা। তাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলো, যাদের সাথে আমি কেবলমাত্র যোগাযোগ করতাম, যারা  আমার সরাসরি প্রভাব ছাড়া আত্মহত্যা করে।

মানুষ আছে এবং জৈব বর্জ্যও আছে যারা সমাজের জন্য কোন গুরুত্ব বহন করে না। এরা কেবল সমাজের ক্ষতি করে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আমি যেমন আমাদের সমাজ থেকে এ ধরণের আবর্জনা পরিষ্কার করছি। এটি ২০১৩ সালে শুরু হয়েছিল যখন আমি এফ-৫৭ গ্রুপ তৈরি করেছি। আমি ৫ বছর ধরে এই ধারণাটি নিয়ে চিন্তা করছি।”

রাশিয়ার পুলিশ কর্তৃপক্ষের মতে, বুদেকিনের কাছে অসংখ্য ‘ব্লু হোয়েল’ অনুসারীদের প্রেমপত্র আসে। বুদেকিন বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি কারাগারে আছে।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ দিয়েই আলোচিত তাসকিন

সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে একজন অভিনেতা যে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারেন, তার উদাহরণ তাসকিন রহমান। ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার নীল চোখের এই অভিনয়শিল্পী এখন অনেকেরই আলোচনার বিষয়। সিনেমা দেখা শেষে প্রেক্ষাগৃহে থেকে বেরিয়ে দর্শকদের মধ্য থেকে অনেকেই বলেছেন, ‘এ তো ভিলেন নয়, নায়ক!’ ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমা মধ্যাহ্ন বিরতির পর থেকে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পর্দাজুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তাসকিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে বাংলা সিনেমার এই নবাগতর বন্দনা। এমন একজন শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ছবির পরিচালক দীপঙ্কর দীপনকেও অভিনন্দন আর ধন্যবাদ জানান অনেকে। যাঁকে ঘিরে এত উন্মাদনা, সেই তাসকিন কী ভাবছেন? প্রিমিয়ার শো থেকে শুরু করে কোথাও দেখা যায়নি তাঁকে। তাহলে কোথায় আছেন তিনি? ফেসবুক মেসেঞ্জারে যখন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়, তখন জানা গেল, তিনি আছেন সিডনিতে। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তাসকিন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমাসহ কথা বলেন নানা প্রসঙ্গে।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে আপনার অভিনয় নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কেমন লাগছে?

অনেক ভালো লাগছে। দীপনদা (দীপঙ্কর দীপন) আর সানী ভাই (সানী সানোয়ার) দুজনই আমার পছন্দের মানুষ। ছবি মুক্তির সময় আমি দেশে আসতে পারিনি বলে তাঁদের মন খুব খারাপ। আমারও খুব খারাপ লাগছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল দর্শক ছবিটি পছন্দ করবে। কিন্তু এতটা যে ভালো লাগবে, সেটা ভাবিনি। আমি শুধু নিজের কথা বলছি না, পুরো ছবিটা মানুষ কতটা পছন্দ করবে, এটাই ছিল মূল লক্ষ্য। শুনলাম, ছবির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত খারাপ কিছু শোনা যায়নি। সবাই ইতিবাচক কথা বলছেন। অনেক দিন পর দেশি কোনো ছবির ক্ষেত্রে এমন ঘটছে। এটা আমার কাছে অনেক বড় বিষয়।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার শুটিংয়ের শুরু থেকেই প্রচারণার সব জায়গায় আরিফিন শুভসহ অন্য শিল্পীদের দেখা গেছে। আপনাকে কোথাও দেখা যায়নি।
এটা ঠিক যে জিসান চরিত্রের পেছন দিকে তাকালে দেখতে পাবেন, আমার কিন্তু কোথাও কোনো নাম যায়নি। এগুলো সবই আমাদের পরিকল্পনা ছিল। আমাকে দীপনদা যখন গল্পটা বলেছিলেন, তাঁর মধ্যে আমাকে নিয়ে আত্মবিশ্বাস ছিল। তবে কোথা থেকে তিনি এই কনফিডেন্স পেয়েছেন, আমি জানি না।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে? 
‘আদি’ সিনেমার শুটিংয়ে ২০১৫ সালে সিডনি থেকে ঢাকায় গেলাম। সে সময়ই দীপনদা আমার সঙ্গে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, একটা দৃশ্য করে দেখাতে। তখন আমি বলেছিলাম, দাদা, আপনি আমাকে কিছুক্ষণ রুমে একা করে দেন। শুধু ক্যামেরা থাকুক। ওই দৃশ্যটা ছিল, হাত থেকে বুলেট পড়ার দৃশ্য। এরপর সবকিছু ম্যাজিক ছিল। আমরা সবাই খুব পরিশ্রম করেছি। শুটিংয়ের সময় দীপনদাকে বলেছিলাম, আমার চরিত্রটি সম্পর্কে সবাইকে জানান। তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি শান্ত থাকো। দেখো কী হয়। এখন মনে হচ্ছে, দাদা আমাকে ঠিকই বলেছিলেন।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার এত সাফল্য! দেশে আসছেন কবে?
আগামী নভেম্বরে সিডনিতে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ মুক্তি পাবে। এদিকে বাংলাদেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহে নাকি ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার টিকিট পাচ্ছেন না দর্শক। সব শুনে ইচ্ছে করছে, উড়ে আসি। তবে সিনেমা মুক্তির সময় যে আমি ঢাকায় থাকতে পারব না, এটা নিশ্চিত ছিলাম। এ জন্য মাস দুয়েক ধরে মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করেছি। এতটা ইতিবাচক রেসপন্স পাব আশা করিনি।

আপনি সিডনিতে কবে থেকে আছেন?
২০০২ সাল থেকে আমি সিডনিতে থাকি। অনেক দিন হয়ে গেছে। এখানে এসে আমি শুরুতে ফরেনসিক সায়েন্সের ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি করেছি। এরপর মাস্টার্স করেছি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। বিজনেস অ্যাডমিনের ওপর ডিপ্লোমাও করেছি। ইচ্ছে আছে নিউরো সায়েন্স নিয়ে পিএইচডি করার। তাই আমি কিছু গবেষণা করছি। সিডনিতে আমি এখন একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি। ক্রাইম স্টপ ডিভিশন।

সিনেমার প্রতি ভালোবাসার কথা বলুন।
আমাদের পরিবার খুব সংস্কৃতিমনা। আমার বাবা আনিসুর রহমান তনু একজন সুরকার ও সংগীতপরিচালক। আমার রক্তে মিউজিক, আর্ট অ্যান্ড মুভি অনেক আগে থেকে বইছে। আমি কিন্তু ছবি আঁকি, গান কম্পোজ করি, গান গাই। এ বছর মার্চে আমি সিডনিতে অয়েল পেইন্টিংয়ের ওপর প্রদর্শনীও করেছি। আমি বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী। বিটিভিতে ‘শীতের পাখি’ নাটকে হুমায়ুন ফরীদি স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি। এরপর আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি। আবুল হায়াত, ডলি জহুর—তাঁরা আমাকে ভালো করেই জানেন। শাওনের সঙ্গে (মেহের আফরোজ শাওন) বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ঈশিতা আপুর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকেই ভাইয়া (নির্মাতা তানিম রহমান অংশু) আর আমার আর্ট ও ক্রিয়েটিভি ছাড়া ভাবার কিছুই ছিল না। এসব নিয়ে খেলে বড় হয়েছি।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির সাফল্য আপনাকে কতটা অনুপ্রাণিত করেছে?
আমি যখন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায় সাইন করি, তখন আশাবাদী ছিলাম। ‘আদি’ নিয়েও আমার আশা অনেক। তখন থেকে ইচ্ছে ছিল, ‘আদি’ অথবা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার কোনোটি যদি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তাহলে লম্বা সময়ের জন্য বাংলাদেশে চলে আসব। আমার ইচ্ছে, কয়েকটি ভালো কাজ করব। আমি এখন আর পড়াশোনা করছি না। কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে গবেষণার কাজ করছি।

অভিনয় কি তাহলে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন?
আমি অভিনয়কে প্রফেশনালি নিয়েছি। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর সাফল্যে এখন লম্বা সময়ের জন্য চলে আসতে পারব।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায় আপনি খলনায়ক। আপনার অভিনয় দেখে অনেকেই বলছেন, আপনি তো নায়ক হিসেবেই কাজ করতে পারেন।
আমি খুব সৌভাগ্যবান। আমি এও শুনেছি, জিসানের মারা যাওয়ার সময় প্রেক্ষাগৃহের দর্শক খুব কষ্ট পেয়েছেন। এটা অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমার জন্য অনেক আনন্দের। ‘আদি’ সিনেমায় কিন্তু আমি ভিলেন না। আরও যে দুটি সিনেমা আসছে—‘মৃত্যুপুরী’ আর ‘অপরেশন অগ্নিপথ’—এগুলোতেও ভিলেন না। সব ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চাই। আমি গল্পের হিরো হতে চাই। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের দর্শকের মানসিকতার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাঁরা এখন সিনেমা ভালো বোঝেন। আশা করছি, সামনে দর্শক আমাকে অন্য চরিত্রেও দেখতে পাবেন।

সংসদ ভেঙে অন্তর্বর্তী সরকার ও সেনা চায় জাপা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনি মোতায়েনসহ ৮ দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপ করেছে জাতীয় পার্টি।

সোমবার (৯ অক্টোবর) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে বসে জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ২৫ সদস্য প্রতিনিধি দল সংলাপ করেছে। সকাল ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে জাপার সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়।

লিখিত প্রস্তাবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনি মোতায়ন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করা, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে। দলীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনে কোনও বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব রাখা যাবে না।

দলটি মনে করে, নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে সব খরচ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করতে হবে। প্রচার কাজের গাড়িবহর সীমিত রাখার বিধান রাখতে হবে। জাতীয় পার্টির লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে বারবার সীমানা নির্ধারণ না করে ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রয়োজনে সংবিধানের ধারা-উপধারা সংশোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-নির্বাচন কমিশনের অধীনে দিয়ে আসাতে হবে।

নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনা করতে হবে এমন মত দিয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় পার্টির একটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা খুবই কঠিন ব্যাপার। এই পদ্ধতিতে সন্ত্রাসী, মাস্তান, কালো টাকার মালিক, অর্থ ও বিত্তের জোরে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন কিংবা নির্বাচনে জিতে আসার সুযোগ রয়ে গেছে। সৎ-বিজ্ঞ, ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনসেবা ও দেশসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখানে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থাই হচ্ছে দলীয় শাসন। আর গণতান্ত্রিক শাসনের মূল কথা হচ্ছে- সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যেও দেখা যায় অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন থাকে না। যেহেতু সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি যখন দলীয় শাসন ব্যবস্থা- সেক্ষেত্রে নির্বাচনও শুধু দলের ভিত্তিতে হতে পারে। অর্থাৎ ভোটারগণ দলকে ভোট দেবেন। সরাসরি প্রার্থীকে নয়। প্রত্যেক দল প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সদস্য পাবে। বর্তমানে বিশ্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত যেসব দেশে এই পদ্ধতি প্রচলন রয়েছে- সেসব দেশকে অনুসরণ করে এবং জাতীয় পার্টির প্রস্তাবিত নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার করার প্রস্তাব পেশ করছি।’

ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এর আগে গত ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এবং ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন কমিশন। আগামী ১৮ অক্টোবর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৫ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।

সুত্রঃ http://www.breakingnews.com.bd/bangla/national/39704.online

1 2 3 22